আন্তর্জাতিক ডেস্ক,দৈনিক নাসা নিউজ।
ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসউদ পেজেশকিয়ান যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে অস্থিরতা সৃষ্টি না করার আহ্বান জানিয়েছেন।তিনি বলেছেন সংলাপ এবং একটি সমঝোতা স্মারক বাস্তবায়নের মাধ্যমে দুই দেশের সমস্যাগুলোর সমাধান করা সম্ভব।আজ শনিবার ২৯ শে আগস্ট তেহরানে এক অনুষ্ঠানে দেওয়া বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন বলে জানিয়েছে ইরানের সংবাদমাধ্যম মেহর নিউজ এজেন্সি।পেজেশকিয়ান বলেন আমরা যদি সংলাপের মাধ্যমে এবং সমঝোতা স্মারকের ভিত্তিতে এগিয়ে যাই,তাহলে আমরা সমস্যাগুলোর সমাধান করতে এবং আমাদের অধিকার নিশ্চিত করতে পারব।তিনি আরও বলেন দেশ,অঞ্চল ও বিশ্বের স্বার্থেই ট্রাম্পের অস্থিরতা সৃষ্টি না করা এবং ইসরাইলের নিরাপত্তাহীনতা ও আগ্রাসন সৃষ্টি না করা উচিত।
ইরানের প্রেসিডেন্ট বলেন তার দেশ যুদ্ধ চায় না। তবে কোনো ধরনের হামলা হলে ইরান শক্তভাবে তার জবাব দেবে।তিনি বলেন আমরা যুদ্ধ চাই না,কিন্তু আগ্রাসনের বিরুদ্ধে শক্ত অবস্থান নেব এবং নিজেদের রক্ষা করব।পেজেশকিয়ান আরও বলেন, নিজেদের ভূখণ্ড রক্ষায় ঐক্যবদ্ধ ও দৃঢ়প্রতিজ্ঞ কোনো জাতিকে আত্মসমর্পণে বাধ্য করার ক্ষমতা কোনো শক্তির নেই।তেহরান সংলাপের মাধ্যমে সমস্যার সমাধান করতে চাইলেও হুমকি ও আগ্রাসনের সামনে ইরানের জনগণ, কর্মকর্তারা এবং সামরিক কমান্ডাররা কখনো আত্মসমর্পণ করবেন না বলেও জানান তিনি।
ইসরাইল মুসলিম দেশগুলোর মধ্যে বিভেদ সৃষ্টি করতে চায় বলেও অভিযোগ করেন পেজেশকিয়ান।তার মতে ইসলামী দেশগুলোর মধ্যে ঐক্য আরও শক্তিশালী হলে এ ধরনের প্রচেষ্টা ব্যর্থ করা সম্ভব।
যুদ্ধের সময় "ব্যতিক্রমী পরিস্থিতিতে" ইরান
এদিকে যুদ্ধের সময় ইরানের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের নৌ অবরোধ দেশ পরিচালনায় ‘অত্যন্ত ব্যতিক্রমী ও অনন্য’ পরিস্থিতি তৈরি করেছিল বলে জানিয়েছেন তেহরানের গভর্নর মোহাম্মদ-সাদেক মোতামেদিয়ান।শনিবার একটি টেলিভিশন অনুষ্ঠানে তিনি বলেন, ইরানের অবকাঠামোয় হামলার পাশাপাশি দেশটির উপর নিষেধাজ্ঞা জোরদার করা এবং নৌ অবরোধ আরোপ করা হয়েছিল। ইরানিয়ান স্টুডেন্টস নিউজ এজেন্সির (আইএসএনএ) বরাতে এ তথ্য জানা গেছে।
মোতামেদিয়ান বলেন ‘সমুদ্রপথে আমাদের দেশের ওপর আরোপিত অবরোধের কারণে দেশ পরিচালনা সত্যিই অত্যন্ত ব্যতিক্রমী ও অনন্য পরিস্থিতির মধ্যে করতে হয়েছে।তিনি জানান যুদ্ধের সময় ইরানের বিভিন্ন অবকাঠামো, বিশেষ করে তেহরানে হামলা চালানো হয়। যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের হামলার অন্যতম প্রধান লক্ষ্য ছিল রাজধানী তেহরান।
তার দাবি তেহরান প্রদেশে বিদ্যুৎ অবকাঠামোর ১ হাজার ২০০টির বেশি স্থাপনা হামলার লক্ষ্যবস্তু হয়েছিল।তবে কর্তৃপক্ষ অল্প সময়ের মধ্যেই বিদ্যুৎ সরবরাহ পুনরুদ্ধার করতে সক্ষম হয়।পানির অবকাঠামোও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল এবং দ্রুত তা মেরামত করা হয়। একই সঙ্গে টেলিযোগাযোগ ও গ্যাস অবকাঠামোও ক্ষতির মুখে পড়ে বলে জানান তিনি।
৭৫০ কোটি ডলার তেল রাজস্ব কেন্দ্রীয় ব্যাংকে স্থানান্তর
অন্য দিকে চলতি ইরানি বছরের প্রথম চার মাসে তেল বিক্রি থেকে পাওয়া ৭৫০ কোটি ডলার রাজস্ব ইরানের কেন্দ্রীয় ব্যাংকে স্থানান্তর করা হয়েছে বলে জানিয়েছে আধা-সরকারি ফারস নিউজ এজেন্সি।সংবাদ মাধ্যমটি ইরানের তেল মন্ত্রণালয়ের কাছ থেকে পাওয়া তথ্যের বরাতে জানিয়েছে এই অর্থ জুলাই থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত সরকারের বৈদেশিক মুদ্রা ব্যয়ের প্রয়োজন মেটানোর জন্য যথেষ্ট হবে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী ২০২৬ ইং সালের ২১ শে মার্চ থেকে ২২ শে জুলাই পর্যন্ত চলতি ইরানি বছরের প্রথম চার মাসে তেল রাজস্ব বাজেটে নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রার ৯৯ শতাংশে পৌঁছেছে।যুক্তরাষ্ট্রের নৌ অবরোধের মধ্যেই এই অর্থ স্থানান্তরের খবর এলো। অবরোধের কারণে ইরানের তেল রপ্তানি ও সামুদ্রিক বাণিজ্যে বিঘ্ন সৃষ্টি হয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
কূটনীতি ও প্রতিরক্ষা "অবিচ্ছেদ্য" ইরান সরকার
এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞা এবং ইরান যেগুলোকে‘যুক্তরাষ্ট্র-ইসরাইলের ষড়যন্ত্র’বলে অভিহিত করেছে,তার বিরুদ্ধে দৃঢ় থাকার ঘোষণা দিয়েছে ইরান সরকার।আজ শনিবার রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে সরকার বলেছে দেশের জাতীয় স্বার্থ,নিরাপত্তা ও ভৌগোলিক অখণ্ডতা রক্ষায় কূটনীতি ও প্রতিরক্ষা-দুটি পথ একই সঙ্গে অনুসরণ করা হবে।ইরান সরকার বলেছে ‘কূটনীতি ও প্রতিরক্ষা পরস্পরের পরিপূরক, সমন্বিত ও অবিচ্ছেদ্য।’
সরকার একই সঙ্গে মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ,কর্মসংস্থান সৃষ্টি,দেশীয় উৎপাদনকে সহায়তা এবং ধীরে ধীরে ডলারের ওপর নির্ভরতা কমানোর উপর গুরুত্ব দেবে।ইরানের নেতৃত্বের সাম্প্রতিক বক্তব্যগুলোতে একদিকে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে সমস্যা সমাধানের আগ্রহ এবং অন্য দিকে সম্ভাব্য আগ্রাসনের বিরুদ্ধে প্রতিরোধের প্রস্তুতি-দুই বার্তাই স্পষ্ট হয়ে উঠেছে।
সূত্রঃ এক্সপ্রেস ট্রিবিউন
বিষয় : আন্তর্জাতিক
.png)
শনিবার, ২৯ আগস্ট ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ২৯ আগস্ট ২০২৬
আন্তর্জাতিক ডেস্ক,দৈনিক নাসা নিউজ।
ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসউদ পেজেশকিয়ান যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে অস্থিরতা সৃষ্টি না করার আহ্বান জানিয়েছেন।তিনি বলেছেন সংলাপ এবং একটি সমঝোতা স্মারক বাস্তবায়নের মাধ্যমে দুই দেশের সমস্যাগুলোর সমাধান করা সম্ভব।আজ শনিবার ২৯ শে আগস্ট তেহরানে এক অনুষ্ঠানে দেওয়া বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন বলে জানিয়েছে ইরানের সংবাদমাধ্যম মেহর নিউজ এজেন্সি।পেজেশকিয়ান বলেন আমরা যদি সংলাপের মাধ্যমে এবং সমঝোতা স্মারকের ভিত্তিতে এগিয়ে যাই,তাহলে আমরা সমস্যাগুলোর সমাধান করতে এবং আমাদের অধিকার নিশ্চিত করতে পারব।তিনি আরও বলেন দেশ,অঞ্চল ও বিশ্বের স্বার্থেই ট্রাম্পের অস্থিরতা সৃষ্টি না করা এবং ইসরাইলের নিরাপত্তাহীনতা ও আগ্রাসন সৃষ্টি না করা উচিত।
ইরানের প্রেসিডেন্ট বলেন তার দেশ যুদ্ধ চায় না। তবে কোনো ধরনের হামলা হলে ইরান শক্তভাবে তার জবাব দেবে।তিনি বলেন আমরা যুদ্ধ চাই না,কিন্তু আগ্রাসনের বিরুদ্ধে শক্ত অবস্থান নেব এবং নিজেদের রক্ষা করব।পেজেশকিয়ান আরও বলেন, নিজেদের ভূখণ্ড রক্ষায় ঐক্যবদ্ধ ও দৃঢ়প্রতিজ্ঞ কোনো জাতিকে আত্মসমর্পণে বাধ্য করার ক্ষমতা কোনো শক্তির নেই।তেহরান সংলাপের মাধ্যমে সমস্যার সমাধান করতে চাইলেও হুমকি ও আগ্রাসনের সামনে ইরানের জনগণ, কর্মকর্তারা এবং সামরিক কমান্ডাররা কখনো আত্মসমর্পণ করবেন না বলেও জানান তিনি।
ইসরাইল মুসলিম দেশগুলোর মধ্যে বিভেদ সৃষ্টি করতে চায় বলেও অভিযোগ করেন পেজেশকিয়ান।তার মতে ইসলামী দেশগুলোর মধ্যে ঐক্য আরও শক্তিশালী হলে এ ধরনের প্রচেষ্টা ব্যর্থ করা সম্ভব।
যুদ্ধের সময় "ব্যতিক্রমী পরিস্থিতিতে" ইরান
এদিকে যুদ্ধের সময় ইরানের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের নৌ অবরোধ দেশ পরিচালনায় ‘অত্যন্ত ব্যতিক্রমী ও অনন্য’ পরিস্থিতি তৈরি করেছিল বলে জানিয়েছেন তেহরানের গভর্নর মোহাম্মদ-সাদেক মোতামেদিয়ান।শনিবার একটি টেলিভিশন অনুষ্ঠানে তিনি বলেন, ইরানের অবকাঠামোয় হামলার পাশাপাশি দেশটির উপর নিষেধাজ্ঞা জোরদার করা এবং নৌ অবরোধ আরোপ করা হয়েছিল। ইরানিয়ান স্টুডেন্টস নিউজ এজেন্সির (আইএসএনএ) বরাতে এ তথ্য জানা গেছে।
মোতামেদিয়ান বলেন ‘সমুদ্রপথে আমাদের দেশের ওপর আরোপিত অবরোধের কারণে দেশ পরিচালনা সত্যিই অত্যন্ত ব্যতিক্রমী ও অনন্য পরিস্থিতির মধ্যে করতে হয়েছে।তিনি জানান যুদ্ধের সময় ইরানের বিভিন্ন অবকাঠামো, বিশেষ করে তেহরানে হামলা চালানো হয়। যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের হামলার অন্যতম প্রধান লক্ষ্য ছিল রাজধানী তেহরান।
তার দাবি তেহরান প্রদেশে বিদ্যুৎ অবকাঠামোর ১ হাজার ২০০টির বেশি স্থাপনা হামলার লক্ষ্যবস্তু হয়েছিল।তবে কর্তৃপক্ষ অল্প সময়ের মধ্যেই বিদ্যুৎ সরবরাহ পুনরুদ্ধার করতে সক্ষম হয়।পানির অবকাঠামোও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল এবং দ্রুত তা মেরামত করা হয়। একই সঙ্গে টেলিযোগাযোগ ও গ্যাস অবকাঠামোও ক্ষতির মুখে পড়ে বলে জানান তিনি।
৭৫০ কোটি ডলার তেল রাজস্ব কেন্দ্রীয় ব্যাংকে স্থানান্তর
অন্য দিকে চলতি ইরানি বছরের প্রথম চার মাসে তেল বিক্রি থেকে পাওয়া ৭৫০ কোটি ডলার রাজস্ব ইরানের কেন্দ্রীয় ব্যাংকে স্থানান্তর করা হয়েছে বলে জানিয়েছে আধা-সরকারি ফারস নিউজ এজেন্সি।সংবাদ মাধ্যমটি ইরানের তেল মন্ত্রণালয়ের কাছ থেকে পাওয়া তথ্যের বরাতে জানিয়েছে এই অর্থ জুলাই থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত সরকারের বৈদেশিক মুদ্রা ব্যয়ের প্রয়োজন মেটানোর জন্য যথেষ্ট হবে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী ২০২৬ ইং সালের ২১ শে মার্চ থেকে ২২ শে জুলাই পর্যন্ত চলতি ইরানি বছরের প্রথম চার মাসে তেল রাজস্ব বাজেটে নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রার ৯৯ শতাংশে পৌঁছেছে।যুক্তরাষ্ট্রের নৌ অবরোধের মধ্যেই এই অর্থ স্থানান্তরের খবর এলো। অবরোধের কারণে ইরানের তেল রপ্তানি ও সামুদ্রিক বাণিজ্যে বিঘ্ন সৃষ্টি হয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
কূটনীতি ও প্রতিরক্ষা "অবিচ্ছেদ্য" ইরান সরকার
এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞা এবং ইরান যেগুলোকে‘যুক্তরাষ্ট্র-ইসরাইলের ষড়যন্ত্র’বলে অভিহিত করেছে,তার বিরুদ্ধে দৃঢ় থাকার ঘোষণা দিয়েছে ইরান সরকার।আজ শনিবার রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে সরকার বলেছে দেশের জাতীয় স্বার্থ,নিরাপত্তা ও ভৌগোলিক অখণ্ডতা রক্ষায় কূটনীতি ও প্রতিরক্ষা-দুটি পথ একই সঙ্গে অনুসরণ করা হবে।ইরান সরকার বলেছে ‘কূটনীতি ও প্রতিরক্ষা পরস্পরের পরিপূরক, সমন্বিত ও অবিচ্ছেদ্য।’
সরকার একই সঙ্গে মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ,কর্মসংস্থান সৃষ্টি,দেশীয় উৎপাদনকে সহায়তা এবং ধীরে ধীরে ডলারের ওপর নির্ভরতা কমানোর উপর গুরুত্ব দেবে।ইরানের নেতৃত্বের সাম্প্রতিক বক্তব্যগুলোতে একদিকে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে সমস্যা সমাধানের আগ্রহ এবং অন্য দিকে সম্ভাব্য আগ্রাসনের বিরুদ্ধে প্রতিরোধের প্রস্তুতি-দুই বার্তাই স্পষ্ট হয়ে উঠেছে।
সূত্রঃ এক্সপ্রেস ট্রিবিউন
.png)
আপনার মতামত লিখুন