স্টাফ করেসপন্ডেন্ট,দৈনিক নাসা নিউজ। পবিত্র রমজানকে মুনাফা লাভের মাসে পরিণত না করতে ব্যবসায়ীদের প্রতি আহবান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।তিনি বলেছেন আমি দেশবাসীকে পবিত্র মাহে রমজানের শুভেচ্ছা জানাই।রমজান আত্মশুদ্ধির মাস।আমরা যদি আত্মশুদ্ধি শব্দটির মর্মার্থ উপলব্ধি করি,তাহলে এই মাসে মানুষের ভোগান্তি বাড়ার কথা নয়।যদিও আমাদের অনেকের মধ্যেই এই মাসটিকে ঘিরে ব্যবসায় অধিক মুনাফা লাভের প্রবণতা লক্ষণীয়।আপনাদের প্রতি আমার আহ্বান, রমজানের পবিত্রতা রক্ষার স্বার্থে এই মাসটিকে আপনারা ব্যবসায় মুনাফা লাভের মাস হিসেবে গণ্য করবেন না।বুধবার ১৮ ই ফেব্রুয়ারি রাতে জাতির উদ্দেশে দেওয়া ভাষণে প্রধানমন্ত্রী এ কথা বলেন।ভাষণের শুরুতেই মহান আল্লাহর দরবারে শুকরিয়া আদায় করেন প্রধানমন্ত্রী।তিনি বলেন হাজারো শহীদের প্রাণের বিনিময়ে আমরা দেশ এবং জনগণের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষা করতে পেরেছি।তাবেদার মুক্ত বাংলাদেশে জনগণের ভোটে জনগণের কাছে জবাবদিহিমূলক একটি নতুন সরকার যাত্রা শুরু করেছে।দেশে গণতন্ত্র এবং মানুষের অধিকার পুনঃ প্রতিষ্ঠার এই যাত্রালগ্নে আমি দেশবাসীকে শুভেচ্ছা এবং আন্তরিক অভিনন্দন জানাই।স্বাধীনতাপ্রিয় গণতন্ত্রকামী জনগণের কারণেই দেশে আবার মানুষের অধিকার,সম্মান এবং মর্যাদা পুনঃ প্রতিষ্ঠার সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে। আমি দেশবাসীর উদ্দেশ্যে একটি বার্তা দিতে চাই,মুসলমান,হিন্দু,বৌদ্ধ,খ্রিস্টান তথা দল-মত ও ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে,পাহাড়ে কিংবা সমতলে বসবাসকারী,এই দেশ আমাদের সবার।প্রতিটি নাগরিকের জন্যই এই দেশকে আমরা একটি নিরাপদ ভূমিতে পরিণত করতে চাই।একটি স্বনির্ভর,নিরাপদ,মানবিক,গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠাই বিএনপি সরকারের লক্ষ্য।তিনি বলেন ফ্যাসিবাদের সময়কালের দুর্নীতি,দুঃশাসনে পর্যুদস্ত একটি ভঙ্গুর অর্থনীতি,দুর্বল শাসন কাঠামো এবং অবনতিশীল আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে নতুন সরকার যাত্রা শুরু করেছে।আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়ন এবং কঠোরভাবে দুর্নীতি নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে জনগণের মনে শান্তি ও নিরাপত্তা ফিরিয়ে আনাই হচ্ছে আমাদের সরকারের প্রধান অগ্রাধিকার।প্রধানমন্ত্রী বলেন সারাদেশে জুয়া এবং মাদকের বিস্তারকেও বর্তমান সরকার আইন-শৃঙ্খলা অবনতির অন্যতম কারণ বলে চিহ্নিত করেছে।সুতরাং,জুয়া এবং মাদক নিয়ন্ত্রণে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী সবরকমের কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ করছে।জনজীবনে শান্তি ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সরকার সর্বোচ্চ উদ্যোগ গ্রহণ করছে।দেশের প্রতিটি সাংবিধানিক এবং সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠান চলবে বিধিবদ্ধ নীতি-নিয়মে।দলীয় কিংবা রাজনৈতিক প্রভাব প্রতিপত্তি অথবা জোর জবরদস্তি নয়,আইনের শাসনই হবে রাষ্ট্র পরিচালনার শেষ কথা।আগামীকাল থেকেই সারাদেশে শুরু হতে যাচ্ছে পবিত্র মাহে রমজান।আমি দেশবাসীকে পবিত্র মাহে রমজানের শুভেচ্ছা জানাই।রমজান আত্ম-শুদ্ধির মাস।আমরা যদি আত্মশুদ্ধি শব্দটির মর্মার্থ উপলব্ধি করি তাহলে এই মাসে মানুষের ভোগান্তি বাড়ার কথা নয়।যদিও আমাদের অনেকের মধ্যেই এই মাসকে ঘিরে ব্যবসায় অধিক মুনাফা লাভের প্রবণতা লক্ষণীয়।আপনাদের প্রতি আমার আহাবান,রমজানের পবিত্রতা রক্ষার স্বার্থে এই মাসকে আপনারা ব্যবসায় মুনাফা লাভের মাস হিসেবে বিবেচনা করবেন না।দ্রব্যমূল্য যাতে সাধারণ মানুষের নাগালের বাইরে না যায়,এ ব্যাপারে ব্যবসায়ীদের সতর্ক থাকার আহবান জানিয়ে তিনি বলেন হাজারো প্রাণের বিনিময়ে একটি মাফিয়া সিন্ডিকেটের পতন ঘটিয়ে,রাষ্ট্র এবং সরকারের জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠার অঙ্গীকার নিয়ে আমরা রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব গ্রহণ করেছি।বিএনপি সরকার সকল ক্ষেত্রেই অনাচার ও অনিয়মের সকল সিন্ডিকেট ভেঙে দিতে বদ্ধপরিকর। ইনশাআল্লাহ।ক্ষুদ্র,মাঝারি কিংবা ছোট-বড়,সব ব্যবসায়ীদের প্রতি বর্তমান সরকারের দৃষ্টিভঙ্গি সহজ এবং স্পষ্ট উল্লেখ করে তিনি বলেন বর্তমান সরকার ব্যবসায়ী এবং ক্রেতা সাধারণ উভয়ের স্বার্থ রক্ষা করেই প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করতে চায়।সুতরাং,সরকারের পক্ষ থেকে কী ধরনের উদ্যোগ গ্রহণ করলে বাজার পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে থাকবে এবং ক্রেতা-বিক্রেতা উভয়ের স্বার্থ রক্ষা হবে,এ ব্যাপারে আপনার যে কোনো ধরনের পরামর্শ কিংবা অভিযোগ শোনা হবে।ক্রেতা-বিক্রেতা গ্রহীতা,এই সরকার সকলেরই সরকার।এই সরকার আপনাদেরই সরকার।আপনারা ভোটের মাধ্যমে এই সরকারকে রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব দিয়েছেন। আপনারাই এই সরকারের শক্তি।রমজান মাসে রোজাদারগণ বিশেষ করে ইফতার,তারাবিহ,সেহরি এই সময়গুলোতে নিরবচ্ছিন্নভাবে গ্যাস,পানি ও বিদ্যুৎ সরবরাহ পেতে চান।এই বিষয়টি নিশ্চিত করতে এরইমধ্যে আমি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে নির্দেশনা দিয়েছি।অপচয় রোধ করে কৃচ্ছ্রসাধন প্রতিটি মুসলমানের ঈমানী দায়িত্ব।অফিস-আদালতে বিনা প্রয়োজনে কিংবা প্রয়োজনের অতিরিক্ত গ্যাস,বিদ্যুৎ,পানি খরচের ব্যাপারে সচেতনতা অবলম্বন করাও ইবাদাতের অংশ।প্রধানমন্ত্রী বলেন দেশের সকল সরকারি-বেসরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং জনসাধারণের প্রতি কৃচ্ছ্রসাধনের আহবান জানানোর আগে আমি সরকারের মন্ত্রী এবং বিএনপির এমপিদেরকে দিয়েই একটি দৃষ্টান্ত স্থাপন করতে চেয়েছি।বিএনপির সংসদীয় দলের প্রথম সভাতেই আমরা সিদ্ধান্ত নিয়েছি,বিএনপি থেকে নির্বাচিত কোনো এমপি সরকারি সুবিধা নিয়ে ট্যাক্স ফ্রি গাড়ি আমদানি করবেন না এবং প্লট সুবিধা নেবেন না।আমি আপনাদের সামনে বলেছিলাম,রাষ্ট্র পরিচালনার সুযোগ পেলে বিএনপি সরকার মহানবীর "ন্যায়পরায়ণতার" আদর্শ অনুসরণ করবে। আমি মনে করি,বিএনপির সংসদীয় দলের এইসব সিদ্ধান্ত "ন্যায়পরায়ণতার" আদর্শেরই প্রতিফলন।বিভাগীয় শহরগুলোয় বিশেষ করে রাজধানী ঢাকায় যানজট প্রায় নিয়ন্ত্রণহীন উল্লেখ করে তিনি বলেন হাটে-মাঠে,ঘাটে,অফিস-আদালতে জনগণের ভোগান্তির শেষ নেই।জনজীবনের নানা ক্ষেত্রে জনদুর্ভোগ লাঘব করা না গেলে জনমনে স্বস্তি ফিরবে না।রাজধানীতে জনসংখ্যার চাপ কমাতে বিকল্প ব্যবস্থা গ্রহণ জরুরি।মানুষ তার নিজ জেলায় কিংবা নিজের বাসায় থেকেও যাতে সহজভাবে,সঠিক সময়ে অফিস-আদালত,ব্যবসা-বাণিজ্য করতে পারেন,সেই লক্ষ্যকে সামনে রেখেই সারাদেশে রেল যোগাযোগ ব্যবস্থা ঢেলে সাজানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।এই পরিকল্পনার অংশ হিসেবে প্রথমেই রেল,নৌ,সড়ক এবং সেতু মন্ত্রণালয়ের কার্যক্রম পুনর্বিন্যাস ও সমন্বয় করা হচ্ছে।আমরা মনে করি,সারাদেশে রেল যোগাযোগ ব্যবস্থা সহজ,সুলভ এবং নিরাপদ করা গেলে,একদিকে যেমন জনগণের শহর-নগরকেন্দ্রিক নির্ভরতা কমবে,অপরদিকে পরিবেশেরও উন্নতি হবে।তারেক রহমান বলেন আমাদের চারপাশে সমস্যার শেষ নেই।তবে সমস্যার পাশাপাশি সম্ভাবনাও কম নয়।আমাদের বৃহৎ জনগোষ্ঠীকে যদি আমরা দক্ষ জনশক্তিতে রূপান্তরিত করতে পারি,তাহলে এই জনসংখ্যাই হবে আমাদের "জনসম্পদ"।আমরা নিজেদেরকে দক্ষ করে গড়ে তুলতে পারলে,শুধু বাংলাদেশই নয়,বিশ্ব বাজারও আমাদের জন্য উন্মুক্ত।তথ্য প্রযুক্তির সিঁড়ি বেয়ে বিশ্ব এখন কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার যুগে প্রবেশ করেছে।প্রযুক্তির এই প্রতিযোগিতামূলক বিশ্বে সম্মান এবং সচ্ছলতার সাথে টিকে থাকতে হলে আমাদের কোনো না কোনো ক্ষেত্রে পারদর্শী হতে হবে। দেশের কোটি কোটি শিক্ষার্থী এবং তরুণ যুবশক্তির উদ্দেশে বলতে চাই,মেধা,জ্ঞান ও বিজ্ঞানে নিজেদের যোগ্য করে গড়ে তোলার জন্য যতরকম সহযোগিতা করা যায় সবরকম সহযোগিতা দিতে বর্তমান সরকার প্রস্তুত।কর্মসংস্থান এবং কর্মপরিবেশ নিশ্চিত করার সুনির্দিষ্ট অঙ্গীকার নিয়ে বর্তমান সরকার যাত্রা শুরু করেছে।প্রধানমন্ত্রী বলেন দীর্ঘ প্রায় ১৮ বছর পর দেশে ফিরে,গত বছরে ২৫ শে ডিসেম্বর আমি বলেছিলাম,দেশ এবং জনগণের জন্য "আই হ্যাভ এ প্ল্যান"।১২ ই ফেব্রুয়ারির জাতীয় নির্বাচনের আগে দেশের বিভিন্ন স্থানে ঘুরে আমার "প্ল্যান" পরিকল্পনার অনেক কিছুই আমি আপনাদের সামনে তুলে ধরেছিলাম।আপনারা স্বাধীনতার ঘোষকের প্রতিষ্ঠিত দল বিএনপিকে ভোট দিয়ে রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব দিয়েছেন।সকল পরিকল্পনা বাস্তবায়নের সুযোগ দিয়েছেন।এখন এই সুযোগকে কাজে লাগিয়ে সকল অঙ্গীকার পূরণের দায়িত্ব বিএনপি সরকারের।আমরা আমাদের পরিকল্পনা এবং প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের কাজ শুরু করে দিয়েছি,ইনশাআল্লাহ।অঙ্গীকার পূরণের এই যাত্রাপথে আমরা ভবিষ্যতের দিনগুলোতেও আপনাদের অব্যাহত সমর্থন প্রত্যাশা করি।সরকার প্রধান হিসেবে দেশবাসীর দৃষ্টি আকর্ষণ করে তিনি বলেন নবগঠিত সরকার গঠনের সুযোগ দিতে যারা বিএনপিকে ভোট দিয়েছেন কিংবা দেননি,অথবা কাউকেই ভোট দেননি,এই সরকারের প্রতি আপনাদের সবার অধিকার সমান।বিএনপি সরকার বিশ্বাস করে, দলমত, ধর্ম,দর্শন যার যার,রাষ্ট্র সবার।এই দেশে,এই রাষ্ট্রে একজন বাংলাদেশি হিসেবে, আপনার,আমার,আমাদের প্রতিটি বাংলাদেশি নাগরিকের অধিকার সমান।আল্লাহ আমাদের সবাইকে নিরাপদ এবং সুস্থ রাখুন।আল্লাহ আমাদেরকে সকল ইতিবাচক পরিকল্পনা বাস্তবায়নের তৌফিক দিন।পবিত্র রোজার মাস শুরুর শুভলগ্নে আল্লাহর দরবারে এ-ই নিবেদন যোগ করেন প্রধানমন্ত্রী।
মতামত
অনলাইন জরিপ
জাতীয়
অর্থনীতি-ব্যাবসা
বিশেষ প্রতিনিধি,দৈনিক নাসা নিউজ। আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন উপলক্ষে আজ বুধবার ১১ ই ফেব্রুয়ারি থেকে টানা দুই দিন ঢাকাসহ সারা দেশের সব দোকান, বিপণিবিতান ও শপিংমল বন্ধ থাকবে।এ সিদ্ধান্ত নিয়েছে বাংলাদেশ দোকান ব্যবসায়ী মালিক সমিতি ও ঢাকা মহানগর দোকান ব্যবসায়ী মালিক সমিতির স্ট্যান্ডিং কমিটির যৌথ সভা।সমিতির সভাপতি মোঃ নাজমুল হাসান মাহমুদের স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয় আগামী ১২ ই ফেব্রুয়ারি ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে।ভোটারদের নির্বিঘ্নে ভোটাধিকার প্রয়োগের সুযোগ করে দিতেই ১১ ও ১২ ই ফেব্রুয়ারি সব ধরনের দোকান ও শপিংমল বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।এদিকে নির্বাচন ও গণভোট সুষ্ঠভাবে সম্পন্ন করার লক্ষ্যে সরকারও টানা তিন দিনের ছুটি ঘোষণা করেছে।জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় গেল ২৫ ই জানুয়ারি এ সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারি করে।প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী ১১ ও ১২ ই ফেব্রুয়ারি সারা দেশের সরকারি,আধা-সরকারি,স্বায়ত্তশাসিত ও বেসরকারি দপ্তরে সাধারণ ছুটি থাকবে।একই সাথে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক,কর্মকর্তা ও কর্মচারীরাও এই ছুটির আওতায় থাকবেন।এর আগে শ্রমজীবী মানুষ যাতে ভোট দিতে পারেন সে সুবিধা নিশ্চিত করতে ১০ ই ফেব্রুয়ারি বিশেষ ছুটি ঘোষণা করা হয়।
মোঃ মশিউর রহমান বিপুল,কুড়িগ্রাম। কুড়িগ্রামের মানুষ যুগের সাথে তাল মিলিয়ে চলতে প্রায় ৫০ শতাংশ মানুষ হোটেলে, রেস্তোরা,বাসা-বাড়ি ও পরিবহনে এলপিজি গ্যাস ব্যবহার করেন।এছাড়া বহুদিন ধরে রান্নার জন্য কুড়িগ্রাম বাসীর প্রধান ভরসা সিলিন্ডার গ্যাস।কিন্তু গত ১-২ সপ্তাহ থেকে বাড়তি দামেও সঠিক সময়ে গ্যাস মিলছে না।এদিকে সরকারি দাম ১ হাজার ৩ শত ৬ টাকা হলেও ডিলার পয়েন্ট থেকে সিলিন্ডার কিনতে হচ্ছে ৩ শত থেকে ৫ শত টাকা বেশিতে।এ বিষয়ে কুড়িগ্রাম সদরের এিমোহনী এলাকার স্থানীয় বাসিন্দা মাসুদ রানা বলেন গত কয়েক দিন থেকে গ্যাস সিলিন্ডারের দাম অনেকটা বৃদ্ধি পেয়েছে। গ্যাস সিলিন্ডার কিনতে হিমশিম খাচ্ছি।কিন্তু না কিনি উপায় নাই বাড়িতে রান্না বান্না করবে কী দিয়ে।কুড়িগ্রাম পৌরসভার স্থানীয় বাসিন্দা রতন চন্দ্র বলেন শহরে বসবাস করি বর্তমানে গ্যাস সংকটে পরিবারের রান্না করতে সমস্যা হচ্ছে। মাঝে মধ্যে টাকা দিয়েও গ্যাস সিলিন্ডার পাচ্ছি না।অপরদিকে কুড়িগ্রাম শহরের প্রাণকেন্দ শাপলা চত্বরে জান্নাত হোটেলের মালিক মুন্না বলেন গ্যাস সিলিন্ডারের দাম বৃদ্ধি পেয়েছে।কিন্তু সেই তুলনায় তো খাবারের দাম বাড়াতে পারছি।বর্তমানে ব্যবসা করতে একটু লোকসান গুনতে হয়।কুড়িগ্রাম শহরের বিশিষ্ট ব্যবসায়ী ও যমুনা গ্যাসের ডিলার বদরুল আহসান মামুন জানান চাহিদার তুলনায় গ্যাস সরবরাহ কম থাকায় এ সমস্যা সৃষ্টি হয়েছে। তিনি আরো জানান ক্রয় মূল্যের সাথে পরিবহন খরচ ও স্বাভাবিক কিছু মুনাফা যোগ দিয়ে বিক্রি করছি।এতে আগের দামের তুলনায় সিলিন্ডারের দাম বৃদ্ধি পেয়েছে। গ্যাস সংকটে অতিরিক্ত দামে এলপিজি গ্যাস বিক্রি বন্ধে অভিযানে নেমেছে ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর।এবিষয়ে কুড়িগ্রাম ভোক্তা অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক মোঃ শেখ সাদী জানান প্রতিদিন আমরা অভিযান চলমান রেখেছি।এছাড়া যে সমস্ত ব্যবসায়ী বাজার সিন্ডিকেট তৈরি করে বর্তমান মুল্যের চেয়ে অতিরিক্ত দামে বিক্রি করছে,তাঁদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করছি।
অর্থনৈতিক ডেস্ক,দৈনিক নাসা নিউজ।টানা দুই দফা দাম বৃদ্ধির পর এবার দেশের বাজারে স্বর্ণের দাম কমিয়েছে বাংলাদেশ জুয়েলার্স এ্যাসোসিয়েশন (বাজুস)।ভরিতে ১ হাজার ৫০ টাকা কমিয়ে ২২ ক্যারেটের নতুন দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ২ লাখ ২৬ হাজার ৮০৬ টাকা।এই দামে আজ শনিবার ১০ ই জানুয়ারি থেকে দেশের বাজারে স্বর্ণ বিক্রি হবে।নতুন মূল্যে প্রতি ভরি (১১.৬৬৪ গ্রাম) ২২ ক্যারেট স্বর্ণ ২ লাখ ২৬ হাজার ৮০৬ টাকা, ২১ ক্যারেট স্বর্ণ ২ লাখ ১৬ হাজার ৪৮৪ টাকা, ১৮ ক্যারেটের স্বর্ণ ১ লাখ ৮৫ হাজার ৫৭৪ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির স্বর্ণ প্রতি ভরি ১ লাখ ৫৪ হাজার ৬৬৫ টাকায় বিক্রি হবে।বাজুসের বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে নির্ধারিত মূল্যের সঙ্গে সরকার নির্ধারিত ৫ শতাংশ ভ্যাট এবং বাজুসের ন্যূনতম ৬ শতাংশ মজুরি যুক্ত করতে হবে।তবে গহনার ডিজাইন ও মানভেদে মজুরির পরিমাণ পরিবর্তিত হতে পারে।স্বর্ণের পাশাপাশি দেশের বাজারে রূপার দামও কমানো হয়েছে।২২ ক্যারেট রূপার প্রতি ভরি দাম কমিয়ে ৫ হাজার ৫৪০ টাকা করা হয়েছে। ২১ ক্যারেট রূপা ৫ হাজার ৩০৭ টাকা, ১৮ ক্যারেট রূপা ৪ হাজার ৫৪৯ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির রূপা প্রতি ভরি ৩ হাজার ৩৮৩ টাকা বিক্রি হবে।চলতি বছরে দেশের বাজারে রূপার দাম তিন দফা সমন্বয় করা হয়েছে।এর মধ্যে একবার দাম বৃদ্ধি পেয়েছে,আর দুইবার কমানো হয়েছে।২০২৫ ইং সালে দেশে রূপার দাম মোট ১৩ দফা সমন্বয় করা হয়েছিল, যার মধ্যে ১০বার দাম বেড়েছিল এবং মাত্র তিনবার কমানো হয়েছিল।
মিজানুর রহমান রিপন,কলাপাড়া,পটুয়াখালী।পটুয়াখালীর পর্যটন নগরী কুয়াকাটায় তিন তারকা মানের একটি আধুনিক হোটেলের শেয়ার বিক্রয় কার্যক্রম উদ্বোধন করেছে সেইফ রিসোর্ট এন্ড ল্যান্ডমার্ক পিএলসি।আজ শনিবার ২০ শে ডিসেম্বর সকাল ১১.০০ টায় কুয়াকাটায় একটি হোটেলে এ তিন তারকা বিশিষ্ট হোটেল নির্মাণ ও শেয়ার বিক্রয় বিষয়ে বিস্তারিত উপস্থাপন করা হয়েছে। "সাগরকন্যা"খ্যাত কুয়াকাটা সমুদ্র সৈকতের কোলঘেঁষে নির্মিত আধুনিক মানসম্পন্ন এই তিন তারকা হোটেলটির বিভিন্ন প্যাকেজে শেয়ার বিক্রয় করা হবে বলে জানিয়েছেন প্রতিষ্ঠানটির পরিচালকবৃন্দ।শেয়ার বিক্রয় উদ্বোধন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন প্রতিষ্ঠানটির চেয়ারম্যান সেলিম সরকার। এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন পরিচালক এ এস এম নিশাদ,আব্দুর রাজ্জাক, প্রকল্প পরিচালক মোঃ মাহমুদুল্লাহ, বিনিয়োগকারী মোঃ রুবেল এবং ব্যবস্থাপনা পরিচালক সৈকত হোসেন।উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী কুয়াকাটা পৌর শাখার আমির মাওলানা মোঃ শহিদুল ইসলাম,মহিপুর ইউনিয়ন বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক আইউব আকন,৯ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি মাওলানা আব্দুল আজিজ,মহিপুর ইউনিয়ন জামায়াত ইসলামীর নেতা মোঃ সুলতান আকন,কলাপাড়া পৌর যুবদলের যুগ্ম- আহবায়ক আবুল কালাম আজাদসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার ব্যক্তিবর্গ।বক্তারা বলেন কুয়াকাটার পর্যটন শিল্পের বিকাশে এই তিন তারকা মানের হোটেল গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে এবং স্থানীয় অর্থনীতিতে নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচন করবে।
বিশেষ প্রতিনিধি,দৈনিক নাসা নিউজ। ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন বাজারে পেঁয়াজের দাম উচ্চ পর্যায়ে রয়েছে,আমদানির পরও দাম কমেনি।ঢাকার বিভিন্ন বাজারে দেশি পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে প্রতিকেজি ১৪০ থেকে ১৫০ টাকায়।ভারত থেকে অল্প পরিমাণে পেঁয়াজ আমদানির পরও বাজারে দাম নিয়ন্ত্রণে আসেনি।দেড় মাস আগে দেশি পুরানো পেঁয়াজের দাম ৭০-৮০ টাকা থেকে বেড়ে ১২০ টাকায় স্থিতিশীল হয়েছিল।তবে ডিসেম্বরের শুরুর দিকে দাম আরও ৩০-৪০ টাকা বেড়ে ১৬০ টাকা পর্যন্ত চলে যায়।সরকার তখন ভারতের কাছ থেকে সীমিত পরিমাণ পেঁয়াজ আমদানির অনুমোদন দেয়।আশা করা হয়েছিল বিদেশি পেঁয়াজ আসলে সিন্ডিকেট ভেঙে দেশি পেঁয়াজেরও দাম কমবে।কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী দেশে এখনও গত অর্থ বছরের উৎপাদিত পেঁয়াজের প্রায় ১ লাখ টন মজুদ রয়েছে।নতুন পেঁয়াজও বাজারে আসতে শুরু করেছে।তবে বেশি পরিমাণ আমদানির অনুমোদন না দেওয়া হলে দেশের কৃষক ক্ষতিগ্রস্ত হবেন।তাই সরকার প্রতিদিন সীমিত পরিমাণ পেঁয়াজ আমদানির অনুমোদন দিয়েছে।আজ শনিবার ১৩ ই ডিসেম্বর ঢাকার বিভিন্ন বাজার ঘুরে দেখা গেছে,দেশি পুরানো পেঁয়াজের দাম প্রতিকেজি ১৪০ থেকে ১৫০ টাকার মধ্যে।তুলনামূলক শিকড়সহ দেশি পুরানো পেঁয়াজ কোথাও কোথাও ১৩৫ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।ভারতীয় পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে ১২০-১৩০ টাকায়, তবে বাজারে কম দেখাই যাচ্ছে।মুগদা বাজারের খুচরা বিক্রেতা রফিকুল ইসলাম বলেন "বাজারে যথেষ্ট সরবরাহ না থাকায় আমরা বেশি দামে কিনে আনছি।তাই বেশি দামে বিক্রি করতে হচ্ছে।বড় আড়তদাররা ঠিক করেন কোন দিন কত টাকায় বিক্রি হবে।আমরা আনি আর বিক্রি করি"।পাইকারি বিক্রেতাদের অভিযোগ সরকার আমদানি পুরোপুরি উন্মুক্ত করেনি।কিছু ব্যবসায়ীকে অনুমতি দেওয়া হয়েছে।ফলে বাজারে চাহিদার তুলনায় সরবরাহ কম হওয়ায় দাম কমেনি।কারওয়ান বাজারের ব্যবসায়ী আকমল সরকার বলেন "ইন্ডিয়ান পেঁয়াজের সরবরাহ কম।সাপ্লাই সীমিত থাকায় দেশি ও ভারতীয় উভয় পেঁয়াজের দাম নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব হচ্ছে না"।শুধু ঢাকায় নয় চট্টগ্রামের খাতুনগঞ্জ পাইকারি বাজারেও দেশি পেঁয়াজের দাম ঊর্ধ্বমুখী।খাতুনগঞ্জে দেশি পেঁয়াজ কেজি ১২০ টাকায়,ভারতীয় পেঁয়াজ ৯০-১০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।এই পরিস্থিতিতে সাধারণ মানুষ ভোগান্তিতে পড়ছেন।সরকার ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ বাজার পর্যবেক্ষণ করছেন, তবে মূল সমস্যার সমাধান এখনো হয়নি।
মোঃ সাব্বির আহমেদ,করেসপন্ডেন্ট,লালমনিরহাট। লালমনিরহাটে প্রথমবারের মতো বগুড়ার ঐতিহ্যবাহী আকবরিয়া সুইটস এন্ড কনফেকশনারির শুভ উদ্বোধন করা হয়েছে।আজ সোমবার ১০ ই অক্টোবর সকাল ১১টায় লালমনিরহাট শহরের কলেজ রোডস্থ,মিশন মোড়ে দই,সন্দেশ,কেক ইত্যাদি তাজা,সুস্বাদু আর মানসম্মত খাবারের প্রতিশ্রুতি নিয়ে সুনামধন্য আকবরিয়া সুইটস এন্ড কনফেকশনারি উদ্বোধন করা হয়।উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে ক্রেতাদের মাঝে আকবরিয়া সুইটসের পক্ষ থেকে নির্ভেজাল ও মানসম্মত খাবার সরবরাহের প্রতিশ্রুতি ব্যক্ত করে সংক্ষিপ্ত আলোচনা শেষে দোয়া অনুষ্ঠিত হয়।এদিকে,বগুড়ার ঐতিহ্যবাহী এ প্রতিষ্ঠানের বিভিন্ন ধরনের খাবার সামগ্রী এখন থেকে হাতের কাছে পাওয়া যাওয়াতে খুশি সাধারন মানুষ।এ সময়ে বিশিষ্ট ব্যবসায়ী আলহাজ্ব নিয়াজ আহমেদ রেজা সহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতৃবৃন্দ,এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ,ব্যবসায়ী ও আকবরিয়া সুইটস এন্ড কনফেকশনারির প্রতিনিধিগণ উপস্থিত ছিলেন।