আন্তর্জাতিক ডেস্ক,দৈনিক নাসা নিউজ।
অধিকৃত পশ্চিম তীরে ফিলিস্তিনিদের কৃষি জমিতে আবারও ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞ চালানোর অভিযোগ উঠেছে ইসরায়েলি বাহিনীর বিরুদ্ধে।সর্বশেষ জেনিন শহরের পশ্চিমে অবস্থিত জুবুবা (Zububa) গ্রামে ইসরায়েলি সামরিক বুলডোজার দিয়ে কৃষিজমি সমতল করার পাশাপাশি ১,৫০০-এর বেশি জলপাই গাছ উপড়ে ফেলা হয়েছে বলে জানিয়েছে স্থানীয় কর্তৃপক্ষ ও ফিলিস্তিনি গণমাধ্যম।
স্থানীয়দের দাবি ধ্বংস করা জলপাই বাগানগুলো বহু বছর ধরে শতাধিক কৃষক পরিবারের আয়ের প্রধান উৎস ছিল। গাছগুলো শুধু অর্থনৈতিক সম্পদই নয়,ফিলিস্তিনিদের ইতিহাস, সংস্কৃতি ও ভূমির সঙ্গে গভীর সম্পর্কের প্রতীক হিসেবেও বিবেচিত হয়। ফলে এসব গাছ উপড়ে ফেলার ঘটনাকে তারা জীবিকা ও অস্তিত্বের ওপর সরাসরি আঘাত হিসেবে দেখছেন।
প্রতিবেদন অনুযায়ী কয়েকদিন আগেই ওই এলাকার কৃষিজমি দখল ও গাছ অপসারণের নোটিশ দেওয়া হয়েছিল।এরপর ভারী বুলডোজার এনে জমি সমতল করা শুরু হয়।এতে কয়েকশ একর কৃষিজমি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে অভিযোগ করা হয়েছে।একই সময়ে রামাল্লাহর পশ্চিমাঞ্চলের দেইর কাদ্দিস ও খারবাথা বানি হারিথ এলাকার বিস্তীর্ণ কৃষিজমিও বুলডোজার দিয়ে সমতল করার খবর পাওয়া গেছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ নতুন ইসরায়েলি বসতি সম্প্রসারণ এবং সংযোগ সড়ক নির্মাণের লক্ষ্যেই এসব অভিযান পরিচালিত হচ্ছে।এদিকে তুবাস জেলার তায়াসির এলাকায় ফিলিস্তিনি কৃষকদের উপর ইসরায়েলি বসতি স্থাপনকারীদের হামলার অভিযোগও উঠেছে।কৃষকদের জমিতে প্রবেশে বাধা দেওয়া এবং নতুন বসতি স্থাপনের প্রস্তুতির খবর স্থানীয় প্রশাসন জানিয়েছে।
ফিলিস্তিনি কর্মকর্তারা বলছেন চলমান এই ধ্বংসযজ্ঞ কৃষি উৎপাদন, খাদ্য নিরাপত্তা এবং গ্রামীণ অর্থনীতিকে মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করছে।জলপাই চাষ হাজার হাজার ফিলিস্তিনি পরিবারের জীবিকার প্রধান অবলম্বন হওয়ায় এর দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব আরও গভীর হতে পারে।অন্যদিকে ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষ সাধারণত এ ধরনের অভিযানের ক্ষেত্রে নিরাপত্তা, সামরিক প্রয়োজন কিংবা অবকাঠামো উন্নয়নের যুক্তি তুলে ধরে।তবে জাতিসংঘসহ আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের বড় একটি অংশ অধিকৃত পশ্চিম তীরে বসতি সম্প্রসারণ এবং ফিলিস্তিনি সম্পত্তি ধ্বংসের ঘটনাকে আন্তর্জাতিক আইনের পরিপন্থী বলে উল্লেখ করে আসছে।গাজা যুদ্ধ শুরুর পর থেকে পশ্চিম তীরেও সহিংসতা,বসতি সম্প্রসারণ এবং কৃষিজমি ধ্বংসের ঘটনা উল্লেখযোগ্য হারে বৃদ্ধি পেয়েছে বলে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থার প্রতিবেদনে উঠে এসেছে।
বিষয় : আন্তর্জাতিক
.png)
মঙ্গলবার, ১৪ জুলাই ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১৩ জুলাই ২০২৬
আন্তর্জাতিক ডেস্ক,দৈনিক নাসা নিউজ।
অধিকৃত পশ্চিম তীরে ফিলিস্তিনিদের কৃষি জমিতে আবারও ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞ চালানোর অভিযোগ উঠেছে ইসরায়েলি বাহিনীর বিরুদ্ধে।সর্বশেষ জেনিন শহরের পশ্চিমে অবস্থিত জুবুবা (Zububa) গ্রামে ইসরায়েলি সামরিক বুলডোজার দিয়ে কৃষিজমি সমতল করার পাশাপাশি ১,৫০০-এর বেশি জলপাই গাছ উপড়ে ফেলা হয়েছে বলে জানিয়েছে স্থানীয় কর্তৃপক্ষ ও ফিলিস্তিনি গণমাধ্যম।
স্থানীয়দের দাবি ধ্বংস করা জলপাই বাগানগুলো বহু বছর ধরে শতাধিক কৃষক পরিবারের আয়ের প্রধান উৎস ছিল। গাছগুলো শুধু অর্থনৈতিক সম্পদই নয়,ফিলিস্তিনিদের ইতিহাস, সংস্কৃতি ও ভূমির সঙ্গে গভীর সম্পর্কের প্রতীক হিসেবেও বিবেচিত হয়। ফলে এসব গাছ উপড়ে ফেলার ঘটনাকে তারা জীবিকা ও অস্তিত্বের ওপর সরাসরি আঘাত হিসেবে দেখছেন।
প্রতিবেদন অনুযায়ী কয়েকদিন আগেই ওই এলাকার কৃষিজমি দখল ও গাছ অপসারণের নোটিশ দেওয়া হয়েছিল।এরপর ভারী বুলডোজার এনে জমি সমতল করা শুরু হয়।এতে কয়েকশ একর কৃষিজমি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে অভিযোগ করা হয়েছে।একই সময়ে রামাল্লাহর পশ্চিমাঞ্চলের দেইর কাদ্দিস ও খারবাথা বানি হারিথ এলাকার বিস্তীর্ণ কৃষিজমিও বুলডোজার দিয়ে সমতল করার খবর পাওয়া গেছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ নতুন ইসরায়েলি বসতি সম্প্রসারণ এবং সংযোগ সড়ক নির্মাণের লক্ষ্যেই এসব অভিযান পরিচালিত হচ্ছে।এদিকে তুবাস জেলার তায়াসির এলাকায় ফিলিস্তিনি কৃষকদের উপর ইসরায়েলি বসতি স্থাপনকারীদের হামলার অভিযোগও উঠেছে।কৃষকদের জমিতে প্রবেশে বাধা দেওয়া এবং নতুন বসতি স্থাপনের প্রস্তুতির খবর স্থানীয় প্রশাসন জানিয়েছে।
ফিলিস্তিনি কর্মকর্তারা বলছেন চলমান এই ধ্বংসযজ্ঞ কৃষি উৎপাদন, খাদ্য নিরাপত্তা এবং গ্রামীণ অর্থনীতিকে মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করছে।জলপাই চাষ হাজার হাজার ফিলিস্তিনি পরিবারের জীবিকার প্রধান অবলম্বন হওয়ায় এর দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব আরও গভীর হতে পারে।অন্যদিকে ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষ সাধারণত এ ধরনের অভিযানের ক্ষেত্রে নিরাপত্তা, সামরিক প্রয়োজন কিংবা অবকাঠামো উন্নয়নের যুক্তি তুলে ধরে।তবে জাতিসংঘসহ আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের বড় একটি অংশ অধিকৃত পশ্চিম তীরে বসতি সম্প্রসারণ এবং ফিলিস্তিনি সম্পত্তি ধ্বংসের ঘটনাকে আন্তর্জাতিক আইনের পরিপন্থী বলে উল্লেখ করে আসছে।গাজা যুদ্ধ শুরুর পর থেকে পশ্চিম তীরেও সহিংসতা,বসতি সম্প্রসারণ এবং কৃষিজমি ধ্বংসের ঘটনা উল্লেখযোগ্য হারে বৃদ্ধি পেয়েছে বলে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থার প্রতিবেদনে উঠে এসেছে।
.png)
আপনার মতামত লিখুন