বৃহস্পতিবার, ০৯ জুলাই ২০২৬
Daily Nasa News
প্রকাশ : বৃহস্পতিবার, ০৯ জুলাই ২০২৬

রাজধানীতে রাইড শেয়ারিং চালকের হাতে তরুণী ধর্ষণের শিকার,গ্রেফতার দুই

রাজধানীতে রাইড শেয়ারিং চালকের হাতে তরুণী ধর্ষণের শিকার,গ্রেফতার দুই
রাজধানীতে রাইড শেয়ারিং চালকের হাতে তরুণী ধর্ষণের শিকার,গ্রেফতার দুই

বিশেষ প্রতিনিধি,দৈনিক নাসা নিউজ।  

​রাজধানীতে এক রাইড শেয়ারিং মোটরসাইকেল চালকের (বাইক রাইডার) বিরুদ্ধে এক তরুণীকে জোরপূর্বক ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে। এই ঘটনায় ভুক্তভোগী তরুণী নিজে বাদী হয়ে মামলা করার পর পুলিশ অভিযুক্ত চালক ও তার এক সহযোগীকে গ্রেপ্তার করেছে। বর্তমানে আসামিরা জেলহাজতে রয়েছে এবং ঘটনার তদন্ত চলছে।

​ঘটনার সূত্রপাতঃ

ভুক্তভোগী তরুণী জানান, প্রায় এক মাস আগে রাইড শেয়ারিং অ্যাপের মাধ্যমে মোটর সাইকেল চালক নিপুর সাথে তার পরিচয় হয়। রাইডার হিসেবে ভালো ও নিরাপদ সার্ভিস দেওয়ায় এবং যাতায়াতের সুবিধার্থে তিনি চালকের মোবাইল নম্বরটি সংরক্ষণ করেন।গত ৬ ই জুন (আনুমানিক) সকাল সাড়ে ১০টায় উত্তরা থেকে কাওরান বাজারে পড়াশোনার ক্লাসে যাওয়ার জন্য তিনি ওই চালকের সাথে পিক অ্যান্ড ড্রপ' চুক্তি করেন।বিকেল সাড়ে ৩টায় ক্লাস শেষ হলে চালক নিপু তাকে জানান যে তার মোটরসাইকেলের চাবিটি তার বন্ধু সোহেলের কাছে রয়েছে, যে বর্তমানে হাতিরঝিলে আছে। চাবি নিয়ে আসতে ২০ মিনিট সময় লাগবে বিধায় তিনি তরুণীকে সোনারগাঁও হোটেলের পাশে বাংলাদেশ বিজনেস কাউন্সিলিং (বিবিসি) নামক একটি অফিসে অপেক্ষা করার অনুরোধ জানান।

​কৌশলে অফিসে নিয়ে ধর্ষণঃ

তরুণী প্রথমে যেতে রাজি না হলেও, চালকের জোরাজুরিতে এবং সোনারগাঁও হোটেলের মতো নিরাপদ এলাকা বিবেচনা করে তিনি ভেতরে যান। সেখানে নিপুর বন্ধু সোহেলের সাথে তার পরিচয় হয়।কিছুক্ষণ পর সোহেল অফিসের বাইরে গিয়ে বাহির থেকে দরজা লক করে দেয়। রুমটি সম্পূর্ণ সাউন্ডপ্রুফ (শব্দনিরোধক) কাঁচের কেবিন হওয়ায় তরুণী চিৎকার করলেও তা বাইরে যাওয়ার কোনো সুযোগ ছিল না।এরপর চালক নিপু তরুণীকে জোরপূর্বক ধস্তাধস্তি ও মুখ চেপে ধরে জীবনের হুমকি দিয়ে ধর্ষণ করে।প্রায় ২০ মিনিট পর বন্ধু সোহেল রুমে ফিরে আসলে নিপু তরুণীকে ছেড়ে দেয়।ঘটনার পর আসামিরা বিষয়টি অত্যন্ত স্বাভাবিকভাবে নেয় এবং তরুণীকে ঘটনাটি চেপে যাওয়ার জন্য সান্ত্বনা দেওয়ার চেষ্টা করে।​

লোকচক্ষুর ভয় কাটিয়ে প্রতিবাদঃ

ভুক্তভোগী তরুণী জানান তিনি একজন ডিভোর্সি এবং প্রাপ্তবয়স্ক হওয়ায় প্রথমে লোকলজ্জা ও সমাজের নেতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গির ভয়ে আইনি পদক্ষেপ নিতে দ্বিধাবোধ করেছিলেন।কিন্তু নিজের সম্মান ও অন্য কোনো নারী যেন এমন ঘটনার শিকার না হয়, সেই সামাজিক দায়বদ্ধতা থেকে তিনি প্রতিবাদের সিদ্ধান্ত নেন।​কৌশলে আসামিকে আটক ও মামলাঃ

ঘটনার পরের দিন তরুণী কৌশলে চালক নিপুকে তুরাগ থানা এলাকার একটি পাবলিক প্লেসে ডেকে আনেন।সেখানে চালক তার অপরাধের কথা আংশিক স্বীকার করলে তরুণী তাকে চড় মারেন এবং তার চিৎকার শুনে আশেপাশের সাধারণ জনগণ ছুটে এসে ধর্ষককে গণধোলাই দিয়ে পুলিশের হাতে সোপর্দ করে। পরবর্তীতে মারিয়া সুলতানা অপি নামের একজন (মামলার এজাহারকারী) থানায় মামলা দায়ের করেন।

​পুলিশের বক্তব্য ও বর্তমান অবস্থাঃ

পুলিশ জানিয়েছে এই ঘটনায় ভুক্তভোগী তরুণীর মেডিকেল ও ডিএনএ টেস্ট ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ফরেনসিক বিভাগে সম্পন্ন হয়েছে। মামলার এজাহারভুক্ত দুই আসামি-চালক নিপু এবং তার সহযোগী সোহেলকে গ্রেপ্তার করে আদালতে প্রেরণের মাধ্যমে জেলহাজতে পাঠানো হয়েছে।ঘটনার সুষ্ঠ তদন্তের প্রক্রিয়া বর্তমানে চলমান রয়েছে।ভুক্তভোগী তরুণী এই ন্যাক্কারজনক ঘটনার জন্য অপরাধীদের সর্বোচ্চ শাস্তির দাবি জানিয়েছেন। 

বিষয় : অপরাধ রাজধানী

আপনার মতামত লিখুন

পরবর্তী খবর
Daily Nasa News

বৃহস্পতিবার, ০৯ জুলাই ২০২৬


রাজধানীতে রাইড শেয়ারিং চালকের হাতে তরুণী ধর্ষণের শিকার,গ্রেফতার দুই

প্রকাশের তারিখ : ০৯ জুলাই ২০২৬

featured Image

বিশেষ প্রতিনিধি,দৈনিক নাসা নিউজ।  

​রাজধানীতে এক রাইড শেয়ারিং মোটরসাইকেল চালকের (বাইক রাইডার) বিরুদ্ধে এক তরুণীকে জোরপূর্বক ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে। এই ঘটনায় ভুক্তভোগী তরুণী নিজে বাদী হয়ে মামলা করার পর পুলিশ অভিযুক্ত চালক ও তার এক সহযোগীকে গ্রেপ্তার করেছে। বর্তমানে আসামিরা জেলহাজতে রয়েছে এবং ঘটনার তদন্ত চলছে।

​ঘটনার সূত্রপাতঃ

ভুক্তভোগী তরুণী জানান, প্রায় এক মাস আগে রাইড শেয়ারিং অ্যাপের মাধ্যমে মোটর সাইকেল চালক নিপুর সাথে তার পরিচয় হয়। রাইডার হিসেবে ভালো ও নিরাপদ সার্ভিস দেওয়ায় এবং যাতায়াতের সুবিধার্থে তিনি চালকের মোবাইল নম্বরটি সংরক্ষণ করেন।গত ৬ ই জুন (আনুমানিক) সকাল সাড়ে ১০টায় উত্তরা থেকে কাওরান বাজারে পড়াশোনার ক্লাসে যাওয়ার জন্য তিনি ওই চালকের সাথে পিক অ্যান্ড ড্রপ' চুক্তি করেন।বিকেল সাড়ে ৩টায় ক্লাস শেষ হলে চালক নিপু তাকে জানান যে তার মোটরসাইকেলের চাবিটি তার বন্ধু সোহেলের কাছে রয়েছে, যে বর্তমানে হাতিরঝিলে আছে। চাবি নিয়ে আসতে ২০ মিনিট সময় লাগবে বিধায় তিনি তরুণীকে সোনারগাঁও হোটেলের পাশে বাংলাদেশ বিজনেস কাউন্সিলিং (বিবিসি) নামক একটি অফিসে অপেক্ষা করার অনুরোধ জানান।

​কৌশলে অফিসে নিয়ে ধর্ষণঃ

তরুণী প্রথমে যেতে রাজি না হলেও, চালকের জোরাজুরিতে এবং সোনারগাঁও হোটেলের মতো নিরাপদ এলাকা বিবেচনা করে তিনি ভেতরে যান। সেখানে নিপুর বন্ধু সোহেলের সাথে তার পরিচয় হয়।কিছুক্ষণ পর সোহেল অফিসের বাইরে গিয়ে বাহির থেকে দরজা লক করে দেয়। রুমটি সম্পূর্ণ সাউন্ডপ্রুফ (শব্দনিরোধক) কাঁচের কেবিন হওয়ায় তরুণী চিৎকার করলেও তা বাইরে যাওয়ার কোনো সুযোগ ছিল না।এরপর চালক নিপু তরুণীকে জোরপূর্বক ধস্তাধস্তি ও মুখ চেপে ধরে জীবনের হুমকি দিয়ে ধর্ষণ করে।প্রায় ২০ মিনিট পর বন্ধু সোহেল রুমে ফিরে আসলে নিপু তরুণীকে ছেড়ে দেয়।ঘটনার পর আসামিরা বিষয়টি অত্যন্ত স্বাভাবিকভাবে নেয় এবং তরুণীকে ঘটনাটি চেপে যাওয়ার জন্য সান্ত্বনা দেওয়ার চেষ্টা করে।​

লোকচক্ষুর ভয় কাটিয়ে প্রতিবাদঃ

ভুক্তভোগী তরুণী জানান তিনি একজন ডিভোর্সি এবং প্রাপ্তবয়স্ক হওয়ায় প্রথমে লোকলজ্জা ও সমাজের নেতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গির ভয়ে আইনি পদক্ষেপ নিতে দ্বিধাবোধ করেছিলেন।কিন্তু নিজের সম্মান ও অন্য কোনো নারী যেন এমন ঘটনার শিকার না হয়, সেই সামাজিক দায়বদ্ধতা থেকে তিনি প্রতিবাদের সিদ্ধান্ত নেন।​কৌশলে আসামিকে আটক ও মামলাঃ

ঘটনার পরের দিন তরুণী কৌশলে চালক নিপুকে তুরাগ থানা এলাকার একটি পাবলিক প্লেসে ডেকে আনেন।সেখানে চালক তার অপরাধের কথা আংশিক স্বীকার করলে তরুণী তাকে চড় মারেন এবং তার চিৎকার শুনে আশেপাশের সাধারণ জনগণ ছুটে এসে ধর্ষককে গণধোলাই দিয়ে পুলিশের হাতে সোপর্দ করে। পরবর্তীতে মারিয়া সুলতানা অপি নামের একজন (মামলার এজাহারকারী) থানায় মামলা দায়ের করেন।

​পুলিশের বক্তব্য ও বর্তমান অবস্থাঃ

পুলিশ জানিয়েছে এই ঘটনায় ভুক্তভোগী তরুণীর মেডিকেল ও ডিএনএ টেস্ট ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ফরেনসিক বিভাগে সম্পন্ন হয়েছে। মামলার এজাহারভুক্ত দুই আসামি-চালক নিপু এবং তার সহযোগী সোহেলকে গ্রেপ্তার করে আদালতে প্রেরণের মাধ্যমে জেলহাজতে পাঠানো হয়েছে।ঘটনার সুষ্ঠ তদন্তের প্রক্রিয়া বর্তমানে চলমান রয়েছে।ভুক্তভোগী তরুণী এই ন্যাক্কারজনক ঘটনার জন্য অপরাধীদের সর্বোচ্চ শাস্তির দাবি জানিয়েছেন। 


Daily Nasa News

Editor & Publisher: Shariful Islam
কপিরাইট © ২০২৬ Daily Nasa News । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত