মোঃ আশিক আলী,করেসপন্ডেন্ট,মিরপুর,কুষ্ঠিয়া।
চলছে বৈশাখের তপ্ত দুপুর,আর এই গরমে স্বস্তি দিচ্ছে প্রকৃতির এক অনন্য পানীয়—টাটকা তালের রস।কুষ্টিয়ার মিরপুর উপজেলার সদরপুর ইউনিয়নের কাকিলাদহ গ্রামে এখন চৈত্র-বৈশাখের এই রসের চাহিদা ব্যাপক বেড়েছে।সকাল ও বিকেলে তালের রস কিনতে মানুষজন ভিড় করছেন,দূর-দুরান্ত থেকে আসছেন মাইক্রোবাস ও মোটরসাইকেল নিয়ে।
স্থানীয় অর্থনীতিতে নতুন সম্ভাবনা,কাকিলাদহ গ্রামটিতে প্রায় ৮ থেকে ১০ হাজার তালগাছ রয়েছে।এসব গাছ থেকে রস সংগ্রহ করে জীবিকা নির্বাহ করছেন স্থানীয় গাছিরা।পেশাদার গাছি রুবেল জানান রাতে মাটির হাঁড়ি গাছের আড়ায় ঝুলিয়ে রাখা হয়।ভোরে সেই হাঁড়ি নামিয়ে তাজা রস সংগ্রহ করা হয়।সকালের রসের স্বাদ ও মান সবচেয়ে ভালো হয়,তাই সে সময় ক্রেতার চাপ সবচেয়ে বেশি থাকে।বিকেলেও নতুন করে রস নামিয়ে বিক্রি করে।প্রাকৃতিক পানীয়ের কদর বাড়ছে।
স্থানীয় বাজার ঘুরে দেখা যায় রস নামানোর সঙ্গেই শুরু হয় বিক্রির ধুম।গরমে শরীর ঠান্ডা রাখতে অনেকে নিয়মিত তালের রস পান করছেন।এটি পুরোপুরি প্রাকৃতিক ও কোনো কৃত্রিম উপাদানমুক্ত হওয়ায় সাধারণ কোমল পানীয়ের একটি স্বাস্থ্যকর বিকল্প হিসেবে জনপ্রিয়তা পাচ্ছে।ক্রেতারা জানান এক গ্লাস ঠান্ডা তালের রস গরমের ক্লান্তি ও দাহ দূর করে,শরীর জুড়িয়ে দেয়। অনেক দূর দুরান্ত থেকে এসে রস খেতে দেখা যায়,কেউ কেউ বোতলে ভরে বাড়িতে নিয়ে যাচ্ছেন,আবার অনেকে গাছের নিচেই দাঁড়িয়ে এই প্রাকৃতিক পানীয়ের স্বাদ গ্রহণ করছেন।
চাহিদার তুলনায় সরবরাহ কম,তালের রসের ক্রমবর্ধমান চাহিদা স্থানীয় অনেকের জন্য মৌসুমি আয়ের দ্বার খুলে দিয়েছে।ভোর থেকে বিকেল পর্যন্ত গাছিরা রস সংগ্রহ ও বিক্রিতে ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছেন। তবে চাহিদার তুলনায় রসের পরিমাণ কম থাকায় অনেক ক্রেতা পছন্দের পরিমাণ কিনতে পারেন না,যা তাদের হতাশার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।স্বাস্থ্য সচেতনতার পরামর্শ,পুষ্টি বিজ্ঞানীরা সতর্ক করে জানিয়েছেন দীর্ঘ সময় বাইরে রাখলে তালের রস দ্রুত নষ্ট হয়ে যায় এবং তা স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর হতে পারে।
তাই তারা সব সময় তাজা ও স্বাস্থ্যসম্মত রস গ্রহণের পরামর্শ দিয়েছেন। গাছিরা যেন স্বাস্থ্যবিধি মেনে রস সংগ্রহ করেন এবং ক্রেতারা যেন নির্ভরযোগ্য উৎস থেকেই রস কিনে পান করেন—সেদিকেও জোর দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা। প্রাকৃতিক এই ঐতিহ্যবাহী পানীয় যেমন গরমে স্বস্তি দিচ্ছে, তেমনি স্থানীয় অর্থনীতিতে ইতিবাচক প্রভাব ফেলছে। উপযুক্ত সংরক্ষণ ও স্বাস্থ্যসচেতনতার মাধ্যমে তালের রসের এই জনপ্রিয়তা ও বাণিজ্য আরও টেকসই হতে পারে।
.png)
বুধবার, ১৩ মে ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১৩ মে ২০২৬
মোঃ আশিক আলী,করেসপন্ডেন্ট,মিরপুর,কুষ্ঠিয়া।
চলছে বৈশাখের তপ্ত দুপুর,আর এই গরমে স্বস্তি দিচ্ছে প্রকৃতির এক অনন্য পানীয়—টাটকা তালের রস।কুষ্টিয়ার মিরপুর উপজেলার সদরপুর ইউনিয়নের কাকিলাদহ গ্রামে এখন চৈত্র-বৈশাখের এই রসের চাহিদা ব্যাপক বেড়েছে।সকাল ও বিকেলে তালের রস কিনতে মানুষজন ভিড় করছেন,দূর-দুরান্ত থেকে আসছেন মাইক্রোবাস ও মোটরসাইকেল নিয়ে।
স্থানীয় অর্থনীতিতে নতুন সম্ভাবনা,কাকিলাদহ গ্রামটিতে প্রায় ৮ থেকে ১০ হাজার তালগাছ রয়েছে।এসব গাছ থেকে রস সংগ্রহ করে জীবিকা নির্বাহ করছেন স্থানীয় গাছিরা।পেশাদার গাছি রুবেল জানান রাতে মাটির হাঁড়ি গাছের আড়ায় ঝুলিয়ে রাখা হয়।ভোরে সেই হাঁড়ি নামিয়ে তাজা রস সংগ্রহ করা হয়।সকালের রসের স্বাদ ও মান সবচেয়ে ভালো হয়,তাই সে সময় ক্রেতার চাপ সবচেয়ে বেশি থাকে।বিকেলেও নতুন করে রস নামিয়ে বিক্রি করে।প্রাকৃতিক পানীয়ের কদর বাড়ছে।
স্থানীয় বাজার ঘুরে দেখা যায় রস নামানোর সঙ্গেই শুরু হয় বিক্রির ধুম।গরমে শরীর ঠান্ডা রাখতে অনেকে নিয়মিত তালের রস পান করছেন।এটি পুরোপুরি প্রাকৃতিক ও কোনো কৃত্রিম উপাদানমুক্ত হওয়ায় সাধারণ কোমল পানীয়ের একটি স্বাস্থ্যকর বিকল্প হিসেবে জনপ্রিয়তা পাচ্ছে।ক্রেতারা জানান এক গ্লাস ঠান্ডা তালের রস গরমের ক্লান্তি ও দাহ দূর করে,শরীর জুড়িয়ে দেয়। অনেক দূর দুরান্ত থেকে এসে রস খেতে দেখা যায়,কেউ কেউ বোতলে ভরে বাড়িতে নিয়ে যাচ্ছেন,আবার অনেকে গাছের নিচেই দাঁড়িয়ে এই প্রাকৃতিক পানীয়ের স্বাদ গ্রহণ করছেন।
চাহিদার তুলনায় সরবরাহ কম,তালের রসের ক্রমবর্ধমান চাহিদা স্থানীয় অনেকের জন্য মৌসুমি আয়ের দ্বার খুলে দিয়েছে।ভোর থেকে বিকেল পর্যন্ত গাছিরা রস সংগ্রহ ও বিক্রিতে ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছেন। তবে চাহিদার তুলনায় রসের পরিমাণ কম থাকায় অনেক ক্রেতা পছন্দের পরিমাণ কিনতে পারেন না,যা তাদের হতাশার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।স্বাস্থ্য সচেতনতার পরামর্শ,পুষ্টি বিজ্ঞানীরা সতর্ক করে জানিয়েছেন দীর্ঘ সময় বাইরে রাখলে তালের রস দ্রুত নষ্ট হয়ে যায় এবং তা স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর হতে পারে।
তাই তারা সব সময় তাজা ও স্বাস্থ্যসম্মত রস গ্রহণের পরামর্শ দিয়েছেন। গাছিরা যেন স্বাস্থ্যবিধি মেনে রস সংগ্রহ করেন এবং ক্রেতারা যেন নির্ভরযোগ্য উৎস থেকেই রস কিনে পান করেন—সেদিকেও জোর দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা। প্রাকৃতিক এই ঐতিহ্যবাহী পানীয় যেমন গরমে স্বস্তি দিচ্ছে, তেমনি স্থানীয় অর্থনীতিতে ইতিবাচক প্রভাব ফেলছে। উপযুক্ত সংরক্ষণ ও স্বাস্থ্যসচেতনতার মাধ্যমে তালের রসের এই জনপ্রিয়তা ও বাণিজ্য আরও টেকসই হতে পারে।
.png)
আপনার মতামত লিখুন