রোববার, ১১ জানুয়ারি ২০২৬
Daily Nasa News

মিয়ানমারে সামরিক বাহিনীর তত্ত্বাবধানে দ্বিতীয় ধাপের ভোটগ্রহণ শুরু

আন্তর্জাতিক ডেস্ক,দৈনিক নাসা নিউজ।   গৃহযুদ্ধে জর্জরিত মিয়ানমারে সামরিক বাহিনীর তত্ত্বাবধানে পাঁচ বছরের মধ্যে প্রথম সাধারণ নির্বাচনের তিন ধাপের মধ্যে দ্বিতীয় ধাপের ভোটগ্রহণ শুরু হয়েছে।আজ রবিবার সকাল থেকে ভোটাররা কেন্দ্রগুলোতে গিয়ে ভোট দিচ্ছেন। চলমান সংঘাত ও নিরাপত্তা সংকটের মধ্যে এই ভোট অনুষ্ঠিত হচ্ছে।২০২১ ইং সালের সামরিক অভ্যুত্থানের পর এটি মিয়ানমারে অনুষ্ঠিত প্রথম নির্বাচন।দুই সপ্তাহ আগে ২৮ শে ডিসেম্বর,প্রথম ধাপের ভোট হয়।ঐ ধাপে ভোটার উপস্থিতি ছিল প্রায় ৫২ শতাংশ,যা আগের নির্বাচনগুলোর তুলনায় অনেক কম। বিশ্লেষকরা মনে করছেন, নির্বাচনের মূল উদ্দেশ্য হলো ক্ষমতাসীন সামরিক জান্তাকে বৈধতা প্রদান করা।প্রথম ধাপে পার্লামেন্টের নিম্নকক্ষের ১০২টি আসনে ভোট অনুষ্ঠিত হয়।এর মধ্যে সামরিক সমর্থিত ইউনিয়ন সলিডারিটি অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট পার্টি (ইউএসডিপি) ৯০টি আসনে জয়লাভ করে। আগামী ২৫ জানুয়ারি চূড়ান্ত ধাপের ভোট অনুষ্ঠিত হবে। তবে নিরাপত্তাজনিত কারণে দেশের অনেক এলাকায় ভোটগ্রহণ সম্ভব হচ্ছে না।সামরিক বাহিনী জানিয়েছে ৩৩০টি টাউনশিপের মধ্যে ৫৬টিতে ভোট হবে না,আর প্রায় এক-তৃতীয়াংশ এলাকা পুরোপুরি নির্বাচনের বাইরে রয়েছে।জাতিসংঘ,পশ্চিমা দেশ ও মানবাধিকার সংস্থাগুলো জানিয়েছেন এই নির্বাচন অবাধ ও বিশ্বাসযোগ্য নয়।বিরোধী দলগুলোর অংশগ্রহণ নিষিদ্ধ করা হয়েছে। নির্বাচন সমালোচনা করলে কঠোর শাস্তির বিধান রয়েছে।অং সান সু চির দল ন্যাশনাল লিগ ফর ডেমোক্রেসিসসহ প্রায় ৪০টি দল নিষিদ্ধ করা হয়েছে।এছাড়া সু চি ও দলের বহু নেতা কারাবন্দি বা নির্বাসনে রয়েছেন।পর্যবেক্ষকদের মতে চীনের সমর্থন পাওয়া জান্তা সরকার এই নির্বাচনের মাধ্যমে নিজেদের বৈধতা জোরদার করতে চাইছে। ভোট গ্রহণ চলাকালীন নিরাপত্তা বাহিনী কেন্দ্রগুলো ঘিরে রেখেছে। দেশটির বিভিন্ন দূরবর্তী ও সংঘর্ষবিধ্বস্ত এলাকায় ভোটার উপস্থিতি সীমিত।ভোটারদের মধ্যে অনেকেই নিরাপত্তা ঝুঁকির কারণে কেন্দ্রে আসতে পারছেন না।নির্বাচন প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে।আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকরা বলছেন, নির্বাচনের আঞ্চলিক পর্যায়ে ত্রুটিপূর্ণ প্রশাসন এবং ভোটারদের সীমিত অংশগ্রহণ এটিকে বৈধ ও প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ নির্বাচন হিসেবে স্বীকৃতি দিতে বাধা দিচ্ছে।সামাজিক ও রাজনৈতিক চাপের কারণে জনগণের মধ্যে বিরূপ প্রতিক্রিয়া দেখা যাচ্ছে।চলমান ভোটাভুটির মধ্যেই দেশটির অর্থনীতি ও নিরাপত্তা পরিস্থিতি চাপের মধ্যে রয়েছে।সামরিক বাহিনী দাবি করছে,ভোট দেশের স্থিতিশীলতা রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ।তবে আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন,ভোট প্রক্রিয়ার সীমাবদ্ধতা এবং বিরোধী দলের নিষেধাজ্ঞার কারণে এটি স্বতন্ত্র ও সমতুল্য নির্বাচন হিসেবে গণ্য করা যাবে না।মিয়ানমারের নির্বাচনের এই দ্বিতীয় ধাপ দেশের ভবিষ্যতের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা সতর্ক করে বলছেন নিরাপত্তা পরিস্থিতি এবং সীমিত অংশগ্রহণ ভোটের ফলাফলকে প্রভাবিত করতে পারে। সঠিক ও স্বচ্ছ নির্বাচনের অভাব ভবিষ্যতে রাজনৈতিক উত্তেজনা আরও বাড়াতে পারে।সূত্রঃ রয়টার্স

মিয়ানমারে সামরিক বাহিনীর তত্ত্বাবধানে দ্বিতীয় ধাপের ভোটগ্রহণ শুরু