মোঃ সাব্বির আহমেদ,করেসপন্ডেন্ট,লালমনিরহাট।
লালমনিরহাট জেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও আলোচিত ব্যবসায়ী সাখাওয়াত হোসেন সুমন খানের মুক্তি দাবি করেছেন তার অনুসারী ও সাধারণ মানুষের একটি অংশ। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তাকে "মানবতার ফেরিওয়ালা" হিসেবে অভিহিত করে এই দাবি জানানো হচ্ছে। তবে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী ও আদালতের তথ্যানুযায়ী,তার বিরুদ্ধে হত্যা এবং শত কোটি টাকা পাচারের মতো গুরুতর অভিযোগ রয়েছে।
মুক্তি দাবির নেপথ্যেঃ
লালমনিরহাটের স্থানীয় পর্যায়ে সুমন খান তার দানশীলতার জন্য পরিচিত ছিলেন। বিভিন্ন ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান, দরিদ্র মানুষের চিকিৎসা এবং কন্যা দায়গ্রস্ত পিতাদের আর্থিক সহায়তা করার কারণে একটি বড় অংশের কাছে তিনি জনপ্রিয়। তার সমর্থকদের দাবি "মানুষের ভালো-মন্দ দিক থাকে, কিন্তু তিনি অতটাও খারাপ মানুষ নন।তার মানবিক কাজের কথা বিবেচনা করে তাকে মুক্তি দেওয়া হোক"। অনেক ফেসবুক পেজে তার মানবিক কর্মকাণ্ডের ছবি শেয়ার করে তাকে "ষড়যন্ত্রের শিকার" হিসেবে দাবি করা হচ্ছে।
আইনি জটিলতা ও অভিযোগঃ
আবেগের পাশাপাশি সুমন খানের আইনি পরিস্থিতি অত্যন্ত জটিল। গত বছরের শেষদিকে গ্রেফতার হওয়ার পর বর্তমানে তিনি কারাগারে রয়েছেন।তার বিরুদ্ধে প্রধান
অভিযোগগুলো হলোঃ
১। অর্থ পাচার (Money Laundering) সিআইডির (CID) তদন্তে সুমন খান,তার স্ত্রী ও এক কর্মচারীর ব্যাংক হিসেবে ৪২৮ কোটি টাকারও বেশি অস্বাভাবিক লেনদেনের প্রমাণ মিলেছে। এই বিপুল অর্থ হুন্ডি ও অবৈধ চোরাচালানের মাধ্যমে অর্জিত বলে অভিযোগ রয়েছে।
২। সম্পদ ক্রোক: আদালতের নির্দেশে ইতোমধ্যে তার মালিকানাধীন 'খান হোটেল'সহ স্থাবর সম্পত্তি জেলা প্রশাসন ক্রোক (Seize) করেছে।
৩। হত্যা মামলাঃ- ২০২৪ ইং সালের ছাত্র আন্দোলন চলাকালে শিক্ষার্থীদের ওপর হামলা ও হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় তাকে প্রধান আসামি করা হয়েছে।এছাড়া তার বিরুদ্ধে জমি দখল ও মাদক চোরাচালানসহ প্রায় ১৫টি মামলা চলমান।
বর্তমান পরিস্থিতিঃ
লালমনিরহাটের সচেতন মহলের মতে আইন তার নিজস্ব গতিতে চলবে।যদি তিনি নির্দোষ হন তবে আদালতের মাধ্যমেই মুক্তি পাবেন।তবে শত শত কোটি টাকার অবৈধ লেনদেন এবং খুনের মামলার আসামিকে "মানবিক" তকমা দিয়ে মুক্তি চাওয়া নিয়ে বিতর্ক তৈরি হয়েছে।বর্তমানে সুমন খান কারাবন্দী রয়েছেন এবং তার মামলার তদন্ত কাজ চলমান রয়েছে। জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে তার জব্দকৃত সম্পদ তদারকি করা হচ্ছে।
বিষয় : লালমনিরহাট সারাদেশ মানবতা
.png)
সোমবার, ০২ মার্চ ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ০১ মার্চ ২০২৬
মোঃ সাব্বির আহমেদ,করেসপন্ডেন্ট,লালমনিরহাট।
লালমনিরহাট জেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও আলোচিত ব্যবসায়ী সাখাওয়াত হোসেন সুমন খানের মুক্তি দাবি করেছেন তার অনুসারী ও সাধারণ মানুষের একটি অংশ। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তাকে "মানবতার ফেরিওয়ালা" হিসেবে অভিহিত করে এই দাবি জানানো হচ্ছে। তবে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী ও আদালতের তথ্যানুযায়ী,তার বিরুদ্ধে হত্যা এবং শত কোটি টাকা পাচারের মতো গুরুতর অভিযোগ রয়েছে।
মুক্তি দাবির নেপথ্যেঃ
লালমনিরহাটের স্থানীয় পর্যায়ে সুমন খান তার দানশীলতার জন্য পরিচিত ছিলেন। বিভিন্ন ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান, দরিদ্র মানুষের চিকিৎসা এবং কন্যা দায়গ্রস্ত পিতাদের আর্থিক সহায়তা করার কারণে একটি বড় অংশের কাছে তিনি জনপ্রিয়। তার সমর্থকদের দাবি "মানুষের ভালো-মন্দ দিক থাকে, কিন্তু তিনি অতটাও খারাপ মানুষ নন।তার মানবিক কাজের কথা বিবেচনা করে তাকে মুক্তি দেওয়া হোক"। অনেক ফেসবুক পেজে তার মানবিক কর্মকাণ্ডের ছবি শেয়ার করে তাকে "ষড়যন্ত্রের শিকার" হিসেবে দাবি করা হচ্ছে।
আইনি জটিলতা ও অভিযোগঃ
আবেগের পাশাপাশি সুমন খানের আইনি পরিস্থিতি অত্যন্ত জটিল। গত বছরের শেষদিকে গ্রেফতার হওয়ার পর বর্তমানে তিনি কারাগারে রয়েছেন।তার বিরুদ্ধে প্রধান
অভিযোগগুলো হলোঃ
১। অর্থ পাচার (Money Laundering) সিআইডির (CID) তদন্তে সুমন খান,তার স্ত্রী ও এক কর্মচারীর ব্যাংক হিসেবে ৪২৮ কোটি টাকারও বেশি অস্বাভাবিক লেনদেনের প্রমাণ মিলেছে। এই বিপুল অর্থ হুন্ডি ও অবৈধ চোরাচালানের মাধ্যমে অর্জিত বলে অভিযোগ রয়েছে।
২। সম্পদ ক্রোক: আদালতের নির্দেশে ইতোমধ্যে তার মালিকানাধীন 'খান হোটেল'সহ স্থাবর সম্পত্তি জেলা প্রশাসন ক্রোক (Seize) করেছে।
৩। হত্যা মামলাঃ- ২০২৪ ইং সালের ছাত্র আন্দোলন চলাকালে শিক্ষার্থীদের ওপর হামলা ও হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় তাকে প্রধান আসামি করা হয়েছে।এছাড়া তার বিরুদ্ধে জমি দখল ও মাদক চোরাচালানসহ প্রায় ১৫টি মামলা চলমান।
বর্তমান পরিস্থিতিঃ
লালমনিরহাটের সচেতন মহলের মতে আইন তার নিজস্ব গতিতে চলবে।যদি তিনি নির্দোষ হন তবে আদালতের মাধ্যমেই মুক্তি পাবেন।তবে শত শত কোটি টাকার অবৈধ লেনদেন এবং খুনের মামলার আসামিকে "মানবিক" তকমা দিয়ে মুক্তি চাওয়া নিয়ে বিতর্ক তৈরি হয়েছে।বর্তমানে সুমন খান কারাবন্দী রয়েছেন এবং তার মামলার তদন্ত কাজ চলমান রয়েছে। জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে তার জব্দকৃত সম্পদ তদারকি করা হচ্ছে।
.png)
আপনার মতামত লিখুন