মাসুদ রানা সুমন,করেসপন্ডেন্ট, দৌলতপুর,মানিকগঞ্জ।
বস্তায় ভরে পুকুরে ডুবিয়ে মারা হলো ৮ কুকুরছানা-শোকে অসুস্থ মা। বিভিন্ন গণমাধ্যমের অনলাইন ভার্সনে এই সংবাদটি চোখে পড়তেই দৃষ্টি স্থির হয়ে গেল। ছবিতে দেখা গেল মৃত ছানাগুলোর সামনে মাথা নিচু করে দাঁড়িয়ে আছে মা কুকুরটি। যেন অবিশ্বাসে স্তব্ধ,সন্তান হারানোর শোকে পাথর হয়ে যাওয়া এক নীরব মাতৃত্ব।কি নির্মম! কী ভয়াবহ নিষ্ঠুরতা! মানুষের হাতে এমন অমানুষিকতার দৃশ্য আজও সম্ভব- এই সত্যটাই যেন পুরো শরীর শীতল করে দিল।
পাবনার ঈশ্বরদীতে এমন হৃদয়বিদারক ঘটনার জন্ম দিয়েছে একজন সরকারি কর্মকর্তার পরিবার।প্রশাসনিক আবাসিক এলাকায়,রাষ্ট্রের নিয়ম-শৃঙ্খলার প্রতীকের ভেতরেই-এমন বর্বরতা সংঘটিত হওয়ার বিষয়টি শুধু দুঃখজনক ও লজ্জাজনকও। যেখানে দায়িত্বশীলতা দেখানোর কথা, সেখানে ঘটেছে মানবতার পরিপূর্ণ বিপরীত।
ছানাগুলো হঠাৎ উধাও হয়ে যাওয়ার পর সারারাত এদিক-ওদিক ছুটে বেড়িয়েছে মা কুকুরটি।বাসার দরজায় দরজায় গিয়ে খোঁজ করেছে,কেঁদেছে, ডেকেছে-খাবার পর্যন্ত মুখে তোলেনি।এই আর্ত মাতৃত্ব কোনো ভাষাতেই সম্পূর্ণভাবে ব্যাখ্যা করা যায় না।যে সন্তানরা পৃথিবীর আলো দেখতে দেখতেই নিস্পাপভাবে জীবন হারাল। তাদের মৃত্যুকে লুকানো হলো একটি বস্তার ভেতর,আর সেই বস্তাই ভেসে উঠল পুকুরের উপর। আমরা কি ভাবতে পারি, বর্বরতার আর কোনো দৃশ্য বাকি থাকে?
আরও কষ্টের বিষয় হলো ঘটনাটি প্রকাশ পায় একটি শিশুর মুখে। শিশুটি সহজভাবে বলে দেয়-তার মা ছানাগুলোকে বস্তায় ভরে পুকুরে ফেলে দিয়েছে।এই সরল উচ্চারণ আমাদের ভাবিয়ে তোলে-আমরা বড়রা আসলে কী ধরনের নির্মমতা পরবর্তী প্রজন্মের সামনে তুলে ধরছি?
এ ঘটনা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়তেই দেশজুড়ে ক্ষোভের ঝড় ওঠে। নেটিজেনরা অভিযুক্তের শাস্তি দাবি করেন। কিন্তু প্রশ্ন হচ্ছে-এমন ঘটনার পর আমরা কি শুধুই ক্ষোভ প্রকাশ করে চুপ হয়ে যাব, নাকি সমাজ হিসেবে দায় নেব? পশু নিপীড়ন রোধে দেশে আইন আছে-কিন্তু তার প্রয়োগ প্রায় নেই বললেই চলে। ফলে অমানবিকতা একধরনের নিত্যদিনের অভ্যাসে পরিণত হয়েছে।
পশুর প্রতি নিষ্ঠুরতা কিন্তু কখনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়; এটি মানুষের মধ্যকার সহিংসতারই এক প্রাথমিক রূপ। যারা দুর্বল প্রাণীর প্রতি নির্দয় হতে পারে,তারা সমাজেও দুর্বল মানুষের উপর অত্যাচার করতে দ্বিধা করে না। তাই এই ঘটনার মধ্যে আমরা শুধু প্রাণহত্যার নয়, মানবিকতার অবক্ষয়ও দেখি।
উপজেলা প্রশাসন তদন্তের আশ্বাস দিয়েছে,কিন্তু এখানেই থেমে গেলে চলবে না।অভিযুক্ত যেই হোক, তাকে আইনের আওতায় আনা জরুরি-শুধু প্রতিকার নয়,প্রতিরোধ গড়ার জন্য।একইসাথে স্কুলে,পরিবারে, সমাজে-প্রাণীর প্রতি দায়িত্ববোধ শেখানো উচিত।আমাদের সন্তানদের জানতে হবে, জীবন মানেই শুধু মানুষের জীবন নয়, পৃথিবী সবার।
ঈশ্বরদীর সেই মা কুকুরের কান্না আমাদের বিবেককে জাগিয়ে তুলুক।আমরা যেন ভুলে না যাই-একটি সভ্য সমাজকে বিচার করা হয় সে কতটা উন্নত,কতটা ধনী, বা কতটা শক্তিশালী-তা দিয়ে নয়, বিচার করা হয় সে দুর্বলতম প্রাণীর জীবনকে কতটা মর্যাদা দেয়, তা দিয়ে।অমানবিকতার এই দৃশ্য আমাদের আরেকবার মনে করিয়ে দিল-মানুষ হওয়া সহজ, কিন্তু মানবিক হওয়াই আসল চ্যালেঞ্জ।
.png)
সোমবার, ১২ জানুয়ারি ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ০৩ ডিসেম্বর ২০২৫
মাসুদ রানা সুমন,করেসপন্ডেন্ট, দৌলতপুর,মানিকগঞ্জ।
বস্তায় ভরে পুকুরে ডুবিয়ে মারা হলো ৮ কুকুরছানা-শোকে অসুস্থ মা। বিভিন্ন গণমাধ্যমের অনলাইন ভার্সনে এই সংবাদটি চোখে পড়তেই দৃষ্টি স্থির হয়ে গেল। ছবিতে দেখা গেল মৃত ছানাগুলোর সামনে মাথা নিচু করে দাঁড়িয়ে আছে মা কুকুরটি। যেন অবিশ্বাসে স্তব্ধ,সন্তান হারানোর শোকে পাথর হয়ে যাওয়া এক নীরব মাতৃত্ব।কি নির্মম! কী ভয়াবহ নিষ্ঠুরতা! মানুষের হাতে এমন অমানুষিকতার দৃশ্য আজও সম্ভব- এই সত্যটাই যেন পুরো শরীর শীতল করে দিল।
পাবনার ঈশ্বরদীতে এমন হৃদয়বিদারক ঘটনার জন্ম দিয়েছে একজন সরকারি কর্মকর্তার পরিবার।প্রশাসনিক আবাসিক এলাকায়,রাষ্ট্রের নিয়ম-শৃঙ্খলার প্রতীকের ভেতরেই-এমন বর্বরতা সংঘটিত হওয়ার বিষয়টি শুধু দুঃখজনক ও লজ্জাজনকও। যেখানে দায়িত্বশীলতা দেখানোর কথা, সেখানে ঘটেছে মানবতার পরিপূর্ণ বিপরীত।
ছানাগুলো হঠাৎ উধাও হয়ে যাওয়ার পর সারারাত এদিক-ওদিক ছুটে বেড়িয়েছে মা কুকুরটি।বাসার দরজায় দরজায় গিয়ে খোঁজ করেছে,কেঁদেছে, ডেকেছে-খাবার পর্যন্ত মুখে তোলেনি।এই আর্ত মাতৃত্ব কোনো ভাষাতেই সম্পূর্ণভাবে ব্যাখ্যা করা যায় না।যে সন্তানরা পৃথিবীর আলো দেখতে দেখতেই নিস্পাপভাবে জীবন হারাল। তাদের মৃত্যুকে লুকানো হলো একটি বস্তার ভেতর,আর সেই বস্তাই ভেসে উঠল পুকুরের উপর। আমরা কি ভাবতে পারি, বর্বরতার আর কোনো দৃশ্য বাকি থাকে?
আরও কষ্টের বিষয় হলো ঘটনাটি প্রকাশ পায় একটি শিশুর মুখে। শিশুটি সহজভাবে বলে দেয়-তার মা ছানাগুলোকে বস্তায় ভরে পুকুরে ফেলে দিয়েছে।এই সরল উচ্চারণ আমাদের ভাবিয়ে তোলে-আমরা বড়রা আসলে কী ধরনের নির্মমতা পরবর্তী প্রজন্মের সামনে তুলে ধরছি?
এ ঘটনা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়তেই দেশজুড়ে ক্ষোভের ঝড় ওঠে। নেটিজেনরা অভিযুক্তের শাস্তি দাবি করেন। কিন্তু প্রশ্ন হচ্ছে-এমন ঘটনার পর আমরা কি শুধুই ক্ষোভ প্রকাশ করে চুপ হয়ে যাব, নাকি সমাজ হিসেবে দায় নেব? পশু নিপীড়ন রোধে দেশে আইন আছে-কিন্তু তার প্রয়োগ প্রায় নেই বললেই চলে। ফলে অমানবিকতা একধরনের নিত্যদিনের অভ্যাসে পরিণত হয়েছে।
পশুর প্রতি নিষ্ঠুরতা কিন্তু কখনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়; এটি মানুষের মধ্যকার সহিংসতারই এক প্রাথমিক রূপ। যারা দুর্বল প্রাণীর প্রতি নির্দয় হতে পারে,তারা সমাজেও দুর্বল মানুষের উপর অত্যাচার করতে দ্বিধা করে না। তাই এই ঘটনার মধ্যে আমরা শুধু প্রাণহত্যার নয়, মানবিকতার অবক্ষয়ও দেখি।
উপজেলা প্রশাসন তদন্তের আশ্বাস দিয়েছে,কিন্তু এখানেই থেমে গেলে চলবে না।অভিযুক্ত যেই হোক, তাকে আইনের আওতায় আনা জরুরি-শুধু প্রতিকার নয়,প্রতিরোধ গড়ার জন্য।একইসাথে স্কুলে,পরিবারে, সমাজে-প্রাণীর প্রতি দায়িত্ববোধ শেখানো উচিত।আমাদের সন্তানদের জানতে হবে, জীবন মানেই শুধু মানুষের জীবন নয়, পৃথিবী সবার।
ঈশ্বরদীর সেই মা কুকুরের কান্না আমাদের বিবেককে জাগিয়ে তুলুক।আমরা যেন ভুলে না যাই-একটি সভ্য সমাজকে বিচার করা হয় সে কতটা উন্নত,কতটা ধনী, বা কতটা শক্তিশালী-তা দিয়ে নয়, বিচার করা হয় সে দুর্বলতম প্রাণীর জীবনকে কতটা মর্যাদা দেয়, তা দিয়ে।অমানবিকতার এই দৃশ্য আমাদের আরেকবার মনে করিয়ে দিল-মানুষ হওয়া সহজ, কিন্তু মানবিক হওয়াই আসল চ্যালেঞ্জ।
.png)
আপনার মতামত লিখুন