মঙ্গলবার, ৩১ মার্চ ২০২৬
Daily Nasa News

হামের প্রাদুর্ভাব বেড়েছে চাঁপাইনবাবগঞ্জে,৩ মাসে ৪ শিশুর মৃত্যু

হামের প্রাদুর্ভাব বেড়েছে চাঁপাইনবাবগঞ্জে,৩ মাসে ৪ শিশুর মৃত্যু
হামের প্রাদুর্ভাব বেড়েছে চাঁপাইনবাবগঞ্জে,৩ মাসে ৪ শিশুর মৃত্যু

শফিকুল ইসলাম,করেসপন্ডেন্ট,চাঁপাইনবাবগঞ্জ। 

চাঁপাইনবাবগঞ্জে আশঙ্কাজনক হারে ছড়িয়ে পড়েছে ভাইরাসজনিত ব্যাধি হাম। সদর, শিবগঞ্জ ও গোমস্তাপুর উপজেলাসহ জেলার বিভিন্ন উপজেলায় শিশুদের মধ্যে এ রোগের প্রাদুর্ভাব দ্রুত বাড়ছে। গত ৩ মাসে হামে আক্রান্ত হয়ে চার শিশুর মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে প্রায় ৬০০ শিশু হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েছে।জেলার শিশু ও নবজাতক বিভাগের কনসালট্যান্ট মাহফুজ রায়হান এসব তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

জেলা স্বাস্থ্য বিভাগের তথ্য অনুযায়ী আক্রান্তের সংখ্যা প্রতি দিন বাড়ছে। হাসপাতালে শযা সংকট দেখা দেওয়ায় শতাধিক শিশু মেঝেতে শুয়ে চিকিৎসা নিচ্ছে।এসব শিশুর বয়স ছয় মাস থেকে পাঁচ বছরের মধ্যে। এদের মধ্যে অনেকেই এখনো পূর্ণাঙ্গ টিকাদান কার্যক্রমে অন্তর্ভুক্ত নয়।গতকাল শনিবার ২৮ শে মার্চ রাতে চাঁপাইনবাবগঞ্জ ২৫০ শয্যা জেলা হাসপাতালে দেখা গেছে,হাসপাতালে শয্যা সংখ্যা মাত্র ২০টি।অথচ ভর্তি রয়েছেন অন্তত ৭০ জন।এদের মধ্যে বেশিরভাগই শিশু। ফলে শয্যা না পেয়ে চিকিৎসা নিতে হচ্ছে মেঝেছে। অনেকে মেঝেতে স্থান না পেয়ে ঠাঁই নিয়েছেন সিঁড়িতে।


হাসপাতালের কিডনি ডায়ালাইসিস ওয়ার্ডকে অস্থায়ী আইসোলেশন ওয়ার্ড বানিয়ে সেখানে শতাধিক রোগীকে গাদাগাদি করে মেঝেতে রেখে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।এমনকি মারাত্মক ঝঁকিপূর্ণ রোগীদের জন্য একটিও নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্র (আইসিইউ) নেই। শিশুদের স্বজনরা বলছেন হাম ছোঁয়াচে রোগ হওয়ায় চিকিৎসকরা বাড়তি সতর্কতা অবলম্বন করতে পরামর্শ দিয়েছেন। কিন্তু ধারণ ক্ষমতার একটি ওয়ার্ডে কয়েকগুণ বেশি রোগী ভর্তি থাকায় এ রোগ ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা করছেন।সদর উপজেলার সুন্দর ইউনিয়নের বাসিন্দা আশরাফুল।হামে আক্রান্ত ছেলেকে নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। তবে শয্যা না পেয়ে মেঝেতে চিকিৎসা নিচ্ছেন।


চিকিৎসা নিতে আসা এক শিশুর বাবা হোসেন আলী বলেন "প্রথমে ভেবেছিলাম সাধারণ জ্বর।কিন্তু শরীরে লাল দানা উঠতে শুরু করলে ভয় পেয়ে দ্রুত হাসপাতালে আসি।এখানে আসার পর দেখছি অনেক শিশু এই রোগে ভুগছে।রোগীর চাপে সেবা পেতে অনেক সময় অপেক্ষা করতে হচ্ছে।একই ওয়ার্ডে ভর্তি থাকা অপর শিশুর মা রুবাইদা বলেন "আমার বাচ্চার বয়স মাত্র আট মাস।জানতাম না এত ছোট শিশুদেরও এই রোগ হতে পারে।আশপাশে আরও অনেকের হচ্ছে শুনে খুব আতঙ্কে আছি"।

এ বিষয়ে জেলা সিভিল সার্জন ডাঃ এ কে এম শাহাব উদ্দিন বলেন সংক্রমণ রোধে আক্রান্তদের আলাদা রাখা,পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখা,হাঁচি-কাশির সময় মুখ ঢেকে রাখা এবং শিশুদের ভিড় এড়িয়ে চলা জরুরি। কোনো উপসর্গ দেখা দিলে দেরি না করে চিকিৎসকের শরণাপন্ন হওয়া আবশ্যক।



               

বিষয় : সারাদেশ রাজশাহী চাপাইনবাবগঞ্জ স্বাস্থ্য

আপনার মতামত লিখুন

পরবর্তী খবর
Daily Nasa News

মঙ্গলবার, ৩১ মার্চ ২০২৬


হামের প্রাদুর্ভাব বেড়েছে চাঁপাইনবাবগঞ্জে,৩ মাসে ৪ শিশুর মৃত্যু

প্রকাশের তারিখ : ৩০ মার্চ ২০২৬

featured Image

শফিকুল ইসলাম,করেসপন্ডেন্ট,চাঁপাইনবাবগঞ্জ। 

চাঁপাইনবাবগঞ্জে আশঙ্কাজনক হারে ছড়িয়ে পড়েছে ভাইরাসজনিত ব্যাধি হাম। সদর, শিবগঞ্জ ও গোমস্তাপুর উপজেলাসহ জেলার বিভিন্ন উপজেলায় শিশুদের মধ্যে এ রোগের প্রাদুর্ভাব দ্রুত বাড়ছে। গত ৩ মাসে হামে আক্রান্ত হয়ে চার শিশুর মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে প্রায় ৬০০ শিশু হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েছে।জেলার শিশু ও নবজাতক বিভাগের কনসালট্যান্ট মাহফুজ রায়হান এসব তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

জেলা স্বাস্থ্য বিভাগের তথ্য অনুযায়ী আক্রান্তের সংখ্যা প্রতি দিন বাড়ছে। হাসপাতালে শযা সংকট দেখা দেওয়ায় শতাধিক শিশু মেঝেতে শুয়ে চিকিৎসা নিচ্ছে।এসব শিশুর বয়স ছয় মাস থেকে পাঁচ বছরের মধ্যে। এদের মধ্যে অনেকেই এখনো পূর্ণাঙ্গ টিকাদান কার্যক্রমে অন্তর্ভুক্ত নয়।গতকাল শনিবার ২৮ শে মার্চ রাতে চাঁপাইনবাবগঞ্জ ২৫০ শয্যা জেলা হাসপাতালে দেখা গেছে,হাসপাতালে শয্যা সংখ্যা মাত্র ২০টি।অথচ ভর্তি রয়েছেন অন্তত ৭০ জন।এদের মধ্যে বেশিরভাগই শিশু। ফলে শয্যা না পেয়ে চিকিৎসা নিতে হচ্ছে মেঝেছে। অনেকে মেঝেতে স্থান না পেয়ে ঠাঁই নিয়েছেন সিঁড়িতে।


হাসপাতালের কিডনি ডায়ালাইসিস ওয়ার্ডকে অস্থায়ী আইসোলেশন ওয়ার্ড বানিয়ে সেখানে শতাধিক রোগীকে গাদাগাদি করে মেঝেতে রেখে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।এমনকি মারাত্মক ঝঁকিপূর্ণ রোগীদের জন্য একটিও নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্র (আইসিইউ) নেই। শিশুদের স্বজনরা বলছেন হাম ছোঁয়াচে রোগ হওয়ায় চিকিৎসকরা বাড়তি সতর্কতা অবলম্বন করতে পরামর্শ দিয়েছেন। কিন্তু ধারণ ক্ষমতার একটি ওয়ার্ডে কয়েকগুণ বেশি রোগী ভর্তি থাকায় এ রোগ ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা করছেন।সদর উপজেলার সুন্দর ইউনিয়নের বাসিন্দা আশরাফুল।হামে আক্রান্ত ছেলেকে নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। তবে শয্যা না পেয়ে মেঝেতে চিকিৎসা নিচ্ছেন।


চিকিৎসা নিতে আসা এক শিশুর বাবা হোসেন আলী বলেন "প্রথমে ভেবেছিলাম সাধারণ জ্বর।কিন্তু শরীরে লাল দানা উঠতে শুরু করলে ভয় পেয়ে দ্রুত হাসপাতালে আসি।এখানে আসার পর দেখছি অনেক শিশু এই রোগে ভুগছে।রোগীর চাপে সেবা পেতে অনেক সময় অপেক্ষা করতে হচ্ছে।একই ওয়ার্ডে ভর্তি থাকা অপর শিশুর মা রুবাইদা বলেন "আমার বাচ্চার বয়স মাত্র আট মাস।জানতাম না এত ছোট শিশুদেরও এই রোগ হতে পারে।আশপাশে আরও অনেকের হচ্ছে শুনে খুব আতঙ্কে আছি"।

এ বিষয়ে জেলা সিভিল সার্জন ডাঃ এ কে এম শাহাব উদ্দিন বলেন সংক্রমণ রোধে আক্রান্তদের আলাদা রাখা,পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখা,হাঁচি-কাশির সময় মুখ ঢেকে রাখা এবং শিশুদের ভিড় এড়িয়ে চলা জরুরি। কোনো উপসর্গ দেখা দিলে দেরি না করে চিকিৎসকের শরণাপন্ন হওয়া আবশ্যক।



               


Daily Nasa News

Editor & Publisher: Shariful Islam
কপিরাইট © ২০২৬ Daily Nasa News । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত