মোঃ বাবুল হোসেন,পাঁচবিবি,জয়পুরহাট।
জয়পুরহাটের পাঁচবিবিতে জোরপূর্বক জমি দখলে নিতে সংখ্যালঘু পরিবারকে হুমকি ও বিভিন্ন ধরনের নির্যাতনের অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ বিষয়ে ভুক্তভোগী পরিবারটি প্রতিপক্ষের হুমকি ও নির্যাতনের হাত থেকে রক্ষা পেতে আদালতে মামলা এবং থানার দ্বারস্থ হলেও কোন প্রতিকার না পাওয়ায় বর্তমানে ভীত-সন্ত্রস্থ হয়ে জীবন যাপন করছে। ঘটনাটি উপজেলার আওলাই ইউনিয়নে তেলকুড়ি গ্রামের।
মামলা অভিযোগ ও সরেজমিনে গিয়ে জানা যায় উপজেলার আওলাই ইউনিয়নের তেলকুড়ি গ্রামের হরেন্দ্রনাথ সরকারের প্রথম স্ত্রী দুটি পুত্র সন্তান রেখে মারা গেলে হরেন্দ্রনাথ পরে চিন্তা রাণী সুচনা নামের এক মহিলাকে বিয়ে করেন।দ্বিতীয় স্ত্রীর গর্ভে নবনিতা নামের এক সন্তানের জম্মের পর হরেন্দ্রনাথ সরকার ২০১২ সালের ১৮ ই জানুয়ারি তার নাবালিকা কণ্যা নবনিতার নামে ছাতিনালী মৌজার বিভিন্ন দাগ ও খতিয়ানে মোট ১ একর ৩৭ শতক সম্পত্তি হেবা মূলে দলিল করে দেন। (দলির নং ৪৭৯)।
২০১২ সালের ২২ জুন হরেন্দ্রনাথ সরকার মারা যাবার পর ২০১৫ সালের ১৬ সেপ্টেম্বরে নাবালিকা নবনিতাও মারা যায় । এরপর উক্ত সম্পত্তি গুলো হরেন্দ্রনাথ সরকারে আগের স্ত্রীর ২ পুত্র উজ্জল সরকার, স্বপন সরকার চাষাবাদ ও ভোগদখল করতে থাকে । এর মধ্যে হরেন্দ্রনাথ সরকারের দ্বিতীয় স্ত্রী নবনিতার নামীয় সম্পত্তি কৌশলে নিজ নামে খারিজ করেন এবং গোপনে ২০২০ সালের ১৩ নভেম্বর একই ইউনিয়নের পিয়ারা গ্রামের মৃত আমছের আলীর পুত্র আব্দুল মতিনের নিকট বিক্রয় করে দেন।এরপর সুচনা রানী অন্যত্র বিয়ে করে ঘর সংসার করতে থাকে । আব্দুল মতিন সম্পত্তি ক্রয় করে দখল না নিলেও গোপনে সেই সম্পত্তি নিজ নামে খারিজ করে নেন।
এদিকে সরকার পতনের পরই আব্দুল মতিন প্রভাব খাটিয়ে সম্পত্তি গুলোর দখল নিতে মরিয়া হয়ে উঠে।এনিয়ে মতিন ও তার সাঙ্গপাঙ্গরা প্রতিনিয়ত হরেন্দ্রনাথ সরকারের দুই ছেলেকে বিভিন্ন ভাবে হুমকি ও ছাড়াও মানসিক নির্যাতন করতে থাকে।হরেন্দ্রনাথ সরকারের পুত্ররা সম্পত্তি বিক্রয়ের বিষয়ে জানতে পেরে ঐ দলিল বাতিল চেয়ে জেলা জয়পুরহাট যুগ্ম জজ ২য় আদালতে মামলা করেন। (যার নং ৩২/২০২০)। পাশাপাশি হুমকি ও নির্যাতনের বিষয়ে থানায় অভিযোগ দায়ের করেন। এর পর থেকে আব্দুল মতিন আরও ক্ষিপ্ত হয়ে প্রতিনিয়ত হুমকি দিয়ে আসছে হিন্দু পরিবার দুটিকে। বর্তমানে তারা নিজেদের নিরাপত্তা নিয়ে ভীতসন্ত্রস্থ্ হয়ে পড়েছে।
আব্দুল মতিনের বাড়ীতে গিয়ে তাকে না পাওয়াই তার বড় ছেলে আব্দুল মোতালেব বলেন তারা যে হুমকি ও নির্যাতনের কথা বলছে তা সম্পূর্ণ বানোয়াট ও মিথ্যা।আমরা বৈধ টাকায় সম্পত্তি গুলো ক্রয় করেছি।দলিল না থাকায় তখন সম্পত্তির দখল নিতে পারিনি।পাঁচবিবি থানার অফিসার ইনচার্জ আব্দুল হাফিজ মোঃ রায়হান বলেন আদালতের বিষয়টি আদালতে সুরাহা হবে। তবে থানায় অভিযোগের বিষয়টি তদন্ত সাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
.png)
বৃহস্পতিবার, ১৫ জানুয়ারি ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১৪ জানুয়ারি ২০২৬
মোঃ বাবুল হোসেন,পাঁচবিবি,জয়পুরহাট।
জয়পুরহাটের পাঁচবিবিতে জোরপূর্বক জমি দখলে নিতে সংখ্যালঘু পরিবারকে হুমকি ও বিভিন্ন ধরনের নির্যাতনের অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ বিষয়ে ভুক্তভোগী পরিবারটি প্রতিপক্ষের হুমকি ও নির্যাতনের হাত থেকে রক্ষা পেতে আদালতে মামলা এবং থানার দ্বারস্থ হলেও কোন প্রতিকার না পাওয়ায় বর্তমানে ভীত-সন্ত্রস্থ হয়ে জীবন যাপন করছে। ঘটনাটি উপজেলার আওলাই ইউনিয়নে তেলকুড়ি গ্রামের।
মামলা অভিযোগ ও সরেজমিনে গিয়ে জানা যায় উপজেলার আওলাই ইউনিয়নের তেলকুড়ি গ্রামের হরেন্দ্রনাথ সরকারের প্রথম স্ত্রী দুটি পুত্র সন্তান রেখে মারা গেলে হরেন্দ্রনাথ পরে চিন্তা রাণী সুচনা নামের এক মহিলাকে বিয়ে করেন।দ্বিতীয় স্ত্রীর গর্ভে নবনিতা নামের এক সন্তানের জম্মের পর হরেন্দ্রনাথ সরকার ২০১২ সালের ১৮ ই জানুয়ারি তার নাবালিকা কণ্যা নবনিতার নামে ছাতিনালী মৌজার বিভিন্ন দাগ ও খতিয়ানে মোট ১ একর ৩৭ শতক সম্পত্তি হেবা মূলে দলিল করে দেন। (দলির নং ৪৭৯)।
২০১২ সালের ২২ জুন হরেন্দ্রনাথ সরকার মারা যাবার পর ২০১৫ সালের ১৬ সেপ্টেম্বরে নাবালিকা নবনিতাও মারা যায় । এরপর উক্ত সম্পত্তি গুলো হরেন্দ্রনাথ সরকারে আগের স্ত্রীর ২ পুত্র উজ্জল সরকার, স্বপন সরকার চাষাবাদ ও ভোগদখল করতে থাকে । এর মধ্যে হরেন্দ্রনাথ সরকারের দ্বিতীয় স্ত্রী নবনিতার নামীয় সম্পত্তি কৌশলে নিজ নামে খারিজ করেন এবং গোপনে ২০২০ সালের ১৩ নভেম্বর একই ইউনিয়নের পিয়ারা গ্রামের মৃত আমছের আলীর পুত্র আব্দুল মতিনের নিকট বিক্রয় করে দেন।এরপর সুচনা রানী অন্যত্র বিয়ে করে ঘর সংসার করতে থাকে । আব্দুল মতিন সম্পত্তি ক্রয় করে দখল না নিলেও গোপনে সেই সম্পত্তি নিজ নামে খারিজ করে নেন।
এদিকে সরকার পতনের পরই আব্দুল মতিন প্রভাব খাটিয়ে সম্পত্তি গুলোর দখল নিতে মরিয়া হয়ে উঠে।এনিয়ে মতিন ও তার সাঙ্গপাঙ্গরা প্রতিনিয়ত হরেন্দ্রনাথ সরকারের দুই ছেলেকে বিভিন্ন ভাবে হুমকি ও ছাড়াও মানসিক নির্যাতন করতে থাকে।হরেন্দ্রনাথ সরকারের পুত্ররা সম্পত্তি বিক্রয়ের বিষয়ে জানতে পেরে ঐ দলিল বাতিল চেয়ে জেলা জয়পুরহাট যুগ্ম জজ ২য় আদালতে মামলা করেন। (যার নং ৩২/২০২০)। পাশাপাশি হুমকি ও নির্যাতনের বিষয়ে থানায় অভিযোগ দায়ের করেন। এর পর থেকে আব্দুল মতিন আরও ক্ষিপ্ত হয়ে প্রতিনিয়ত হুমকি দিয়ে আসছে হিন্দু পরিবার দুটিকে। বর্তমানে তারা নিজেদের নিরাপত্তা নিয়ে ভীতসন্ত্রস্থ্ হয়ে পড়েছে।
আব্দুল মতিনের বাড়ীতে গিয়ে তাকে না পাওয়াই তার বড় ছেলে আব্দুল মোতালেব বলেন তারা যে হুমকি ও নির্যাতনের কথা বলছে তা সম্পূর্ণ বানোয়াট ও মিথ্যা।আমরা বৈধ টাকায় সম্পত্তি গুলো ক্রয় করেছি।দলিল না থাকায় তখন সম্পত্তির দখল নিতে পারিনি।পাঁচবিবি থানার অফিসার ইনচার্জ আব্দুল হাফিজ মোঃ রায়হান বলেন আদালতের বিষয়টি আদালতে সুরাহা হবে। তবে থানায় অভিযোগের বিষয়টি তদন্ত সাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
.png)
আপনার মতামত লিখুন