সোমবার, ১২ জানুয়ারি ২০২৬
Daily Nasa News
প্রকাশ : বৃহস্পতিবার, ৩০ অক্টোবর ২০২৫

বাগাতিপাড়ায় কাঁথাফোঁড়ের আয়েই চলছে মানিকজানের জীবনের চাকা

বাগাতিপাড়ায় কাঁথাফোঁড়ের আয়েই চলছে মানিকজানের জীবনের চাকা
বাগাতিপাড়ায় কাঁথাফোঁড়ের আয়েই চলছে মানিকজানের জীবনের চাকা

মোঃফজলে রাব্বি,বাগাতিপাড়া নাটোর।

জীবন মানে সংগ্রাম।সেই সংগ্রামের প্রতিটি ধাপে লড়ে যাচ্ছেন বাগাতিপাড়ার এক অদম্য নারী-মানিকজান বিবি।নাটোরের বাগাতিপাড়া উপজেলার জামনগর ইউনিয়নের মোল্লাপাড়া গ্রামের এই নারী নিজের পরিশ্রমে আজও বাঁচিয়ে রেখেছেন জীবনের চাকা।অনেক বছর আগে স্বামীকে হারান মানিকজান। তখন একমাত্র মেয়েকে নিয়ে ফিরে আসেন বাবার ঘরে। কিছুদিনের মধ্যেই বাবাও মারা যান।এরপর শুরু হয় তাঁর কঠিন দিনযাপন। সংসারে অভাব, না খেয়ে থাকা,কষ্ট-সবকিছুর মধ্যেও তিনি হার মানেননি। 

মেয়েকে বড় করেছেন,শিক্ষা দিয়েছেন,অবশেষে বিয়ে দিয়েছেন নিজের সামর্থ্য অনুযায়ী।এখন মেয়ে ও জামাই আলাদা সংসারে সুখে আছেন।অন্য দিকে মানিকজান এখন বয়স্কা নারী।বয়স হয়েছে অনেক,তাই হাঁটাচলায় ধীরগতি এসেছে। কানে কম শোনেন,চোখেও ঝাপসা দেখেন। তবু বসে থাকেন না।এখনও 

কাঁথা ও লেপ সেলাইয়ের কাজ করে নিজের খরচ নিজেই চালান তিনি।প্রতিদিন ভোরে ঘুম থেকে উঠে সূঁচ-সুতা হাতে বসেন কাজে।একদিনে তিনি দুইটি কাঁথা ফোঁড়তে পারেন।প্রতিটি কাঁথার জন্য মজুরি পান ১০০ টাকা। এই সামান্য টাকাতেই তিনি খাবার ও কাপড়ের খরচ মেটান।

জামনগর কুঠিপাড়া এলাকার এক গৃহিণী বলেন "মানিকজান আপা খুব পরিশ্রমী মানুষ।খুব অল্প টাকায় তিনি কাঁথা আর লেপ সেলাই করেন। তাঁর হাতে করা কাঁথাগুলো দেখতে দারুণ সুন্দর হয়"।মানিকজান বিবির হাতে এখনো সেই নিপুণতা।বয়সের ভারে ক্লান্ত হলেও তাঁর মন ভাঙেনি। জীবনের কষ্টকে হাসিমুখে জয় করেছেন তিনি।প্রতিদিন সূঁচে সুতার ফোঁড় তোলার সঙ্গে সঙ্গে তিনি যেন দিচ্ছেন এক জীবন পাঠ-পরিশ্রম আর ইচ্ছাশক্তি থাকলে বয়স বা অভাব কোনো বাধাই নয়।



বিষয় : নাটোর রাজশাহী জীবন

আপনার মতামত লিখুন

পরবর্তী খবর
Daily Nasa News

সোমবার, ১২ জানুয়ারি ২০২৬


বাগাতিপাড়ায় কাঁথাফোঁড়ের আয়েই চলছে মানিকজানের জীবনের চাকা

প্রকাশের তারিখ : ৩০ অক্টোবর ২০২৫

featured Image

মোঃফজলে রাব্বি,বাগাতিপাড়া নাটোর।

জীবন মানে সংগ্রাম।সেই সংগ্রামের প্রতিটি ধাপে লড়ে যাচ্ছেন বাগাতিপাড়ার এক অদম্য নারী-মানিকজান বিবি।নাটোরের বাগাতিপাড়া উপজেলার জামনগর ইউনিয়নের মোল্লাপাড়া গ্রামের এই নারী নিজের পরিশ্রমে আজও বাঁচিয়ে রেখেছেন জীবনের চাকা।অনেক বছর আগে স্বামীকে হারান মানিকজান। তখন একমাত্র মেয়েকে নিয়ে ফিরে আসেন বাবার ঘরে। কিছুদিনের মধ্যেই বাবাও মারা যান।এরপর শুরু হয় তাঁর কঠিন দিনযাপন। সংসারে অভাব, না খেয়ে থাকা,কষ্ট-সবকিছুর মধ্যেও তিনি হার মানেননি। 

মেয়েকে বড় করেছেন,শিক্ষা দিয়েছেন,অবশেষে বিয়ে দিয়েছেন নিজের সামর্থ্য অনুযায়ী।এখন মেয়ে ও জামাই আলাদা সংসারে সুখে আছেন।অন্য দিকে মানিকজান এখন বয়স্কা নারী।বয়স হয়েছে অনেক,তাই হাঁটাচলায় ধীরগতি এসেছে। কানে কম শোনেন,চোখেও ঝাপসা দেখেন। তবু বসে থাকেন না।এখনও 

কাঁথা ও লেপ সেলাইয়ের কাজ করে নিজের খরচ নিজেই চালান তিনি।প্রতিদিন ভোরে ঘুম থেকে উঠে সূঁচ-সুতা হাতে বসেন কাজে।একদিনে তিনি দুইটি কাঁথা ফোঁড়তে পারেন।প্রতিটি কাঁথার জন্য মজুরি পান ১০০ টাকা। এই সামান্য টাকাতেই তিনি খাবার ও কাপড়ের খরচ মেটান।

জামনগর কুঠিপাড়া এলাকার এক গৃহিণী বলেন "মানিকজান আপা খুব পরিশ্রমী মানুষ।খুব অল্প টাকায় তিনি কাঁথা আর লেপ সেলাই করেন। তাঁর হাতে করা কাঁথাগুলো দেখতে দারুণ সুন্দর হয়"।মানিকজান বিবির হাতে এখনো সেই নিপুণতা।বয়সের ভারে ক্লান্ত হলেও তাঁর মন ভাঙেনি। জীবনের কষ্টকে হাসিমুখে জয় করেছেন তিনি।প্রতিদিন সূঁচে সুতার ফোঁড় তোলার সঙ্গে সঙ্গে তিনি যেন দিচ্ছেন এক জীবন পাঠ-পরিশ্রম আর ইচ্ছাশক্তি থাকলে বয়স বা অভাব কোনো বাধাই নয়।




Daily Nasa News

Editor & Publisher: Shariful Islam
কপিরাইট © ২০২৬ Daily Nasa News । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত