প্রিন্ট এর তারিখ : ২৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ||
প্রকাশের তারিখ : ১৮ জানুয়ারি ২০২৬
পাথরঘাটায় "পুলিশের কাজ কী?" প্রশ্ন করায় যুবককে তুলে নিয়ে মামলা দেওয়ার অভিযোগ
||
তুষার কান্তি হাওলাদার,পাথরঘাটা,বরগুনা। বরগুনার পাথরঘাটায় পুলিশের কার্যক্রম নিয়ে সাধারণ মন্তব্য করায় আব্দুর রহিম (১৮) নামে এক যুবককে কোনো সুনির্দিষ্ট অভিযোগ ছাড়াই গ্রেফতার করার অভিযোগ উঠেছে।এসআই জাহাঙ্গীরের ব্যক্তিগত আক্রোশ এবং ওসি লংমেচনের উদাসীনতায় একটি সাধারণ মন্তব্যকে কেন্দ্র করে ওই যুবককে এখন জেলহাজতে দিন কাটাতে হচ্ছে।পুলিশের এমন আচরণকে স্থানীয়রা 'স্বৈরাচারী' ও 'ক্ষমতার অপব্যবহার' হিসেবে দেখছেন।ঘটনার সূত্রপাতঃ ১২ ই জানুয়ারিঘটনার শুরু গত ১২ ই জানুয়ারি ২০২৬ ইং তারিখে।পাথরঘাটা উপজেলার হাড়িটানা ইউনিয়নে নাসির নামে এক ব্যক্তির উপর স্থানীয় এক বিএনপি নেতার হামলার ঘটনা ঘটে।হামলায় নাসিরের পা ভেঙে তিন টুকরো হয়ে যায়। ঘটনার প্রায় ২ ঘণ্টা পর পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছায়।সেখানে উৎসুক জনতার ভিড়ে উপস্থিত ছিলেন ১৮ বছর বয়সী তরুণ আব্দুর রহিম।পুলিশের দেরিতে পৌঁছানো দেখে তিনি স্বগতোক্তি করেছিলেন "পুলিশের কাজ কী, যে ঘটনা ঘটে যাওয়ার পরে আসে?" এই মন্তব্যটি কানে পৌঁছানো মাত্রই ক্ষিপ্ত হয়ে উঠেন এসআই জাহাঙ্গীর। তিনি রহিমকে ধমক দিয়ে এবং বকাঝকা করে সেখান থেকে সরিয়ে দেন।প্রতিশোধের আটকঃ ১৬ ই জানুয়ারিসেই ঘটনার চার দিন পর গত ১৬ ই জানুয়ারি রাত ৮টার দিকে আব্দুর রহিম তার পরিচিত দুই ব্যক্তির সাথে দেখা করতে গেলে পুলিশ তাকে বাধা দেয়।তিনি ফিরে যেতে উদ্যত হলে এসআই জাহাঙ্গীর তাকে পেছন থেকে ডেকে নাম-পরিচয় জানতে চান।পরিচয় নিশ্চিত হওয়ার পর কোনো অভিযোগ ছাড়াই তাকে থানায় নিয়ে গারদবন্দি করা হয়।রহিমের পরিবারের দাবি আটক করার সময় এসআই জাহাঙ্গীর বিদ্রুপ করে বলেন "পুলিশ কোনো কাজ করে না তো,তাই একটু কাজ করলাম।পরিবারের সদস্যরা থানায় গিয়ে আকুতি-মিনতি করলেও এসআই জাহাঙ্গীর মন গলাননি।উল্টো তাকে হুমকি দিয়ে বলেন "এই মামলা থেকে বের হয়ে গেলেও পরে আরও বড় মামলায় ঢুকিয়ে দেব।অসংলগ্ন অভিযোগ ও পুলিশের ভূমিকা প্রথমে কোনো কারণ না জানালেও পরে পুলিশ দাবি করে আব্দুর রহিমকে ছাত্রদল নেতার উপর হামলাকারী সন্দেহে আটক করা হয়েছে।অথচ ঘটনার সময় রহিম সেখানে কেবল দর্শক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন।রহিমের বাবা থানায় গিয়ে ছেলের মুক্তি চাইলেও পুলিশ তাকে ফিরিয়ে দেয় এবং কোনো কথা শুনতে রাজি হয়নি।বরং বলা হয় "বড় অভিযোগ আছে, কোর্টে গিয়ে লড়েন।এ বিষয়ে পাথরঘাটা থানার ওসি লংমেচনের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি বিষয়টি জানেন না বলে এড়িয়ে যান।অভিযানের ব্যস্ততা দেখিয়ে তিনি দ্রুত ফোন কেটে দেন।সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তোলপাড় একজন তরুণের সামান্য মন্তব্যকে কেন্দ্র করে পুলিশের এমন প্রতিহিংসামূলক আচরণের খবর ছড়িয়ে পড়লে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তীব্র নিন্দার ঝড় উঠে।সাধারণ মানুষ ক্ষোভ প্রকাশ করে বলছেন স্বাধীন দেশে পুলিশের কার্যক্রম নিয়ে প্রশ্ন তোলা যদি অপরাধ হয়,তবে সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা কোথায়? এসআই জাহাঙ্গীরের এই 'ব্যক্তিগত আক্রোশ' মেটানোর খেসারত কেন একজন নিরপরাধ তরুণকে দিতে হবে,তা নিয়ে প্রশাসনের উর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের হস্তক্ষেপ দাবি করেছেন এলাকাবাসী।
কপিরাইট © ২০২৬ Daily Nasa News । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত