প্রিন্ট এর তারিখ : ১২ জানুয়ারি ২০২৬ ||
প্রকাশের তারিখ : ২০ ডিসেম্বর ২০২৫
শহীদ ওসমান হাদির নামাজে জানাযা মানিক মিয়া অ্যাভিনিউতে ব্যাপক প্রস্তুতি সম্পূর্ণ
||
বিশেষ প্রতিবেদক,দৈনিক নাসা নিউজ।ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরীফ ওসমান হাদির নামাজে জানাযাকে কেন্দ্র করে রাজধানীর মানিক মিয়া অ্যাভিনিউ ও জাতীয় সংসদ ভবন এলাকায় ব্যাপক প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে।গতকাল শুক্রবার রাত থেকেই এই এলাকায় আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর তৎপরতা বাড়ানো হয়।আজ শনিবার ২০ শে ডিসেম্বর সকাল থেকে ধীরে ধীরে বিভিন্ন এলাকা থেকে মানুষ মানিক মিয়া অ্যাভিনিউতে আসতে শুরু করেছে। বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে জনসমাগম আরও বাড়বে বলে ধারণা করা হচ্ছে।শুক্রবার রাতেই দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে আগত মানুষ শোক মিছিল নিয়ে শাহবাগ এলাকায় জড়ো হয়।সেখানে উপস্থিত ব্যক্তিরা জানান জুলাই গণআন্দোলনের অগ্রণী সৈনিক ছিলেন শরীফ ওসমান হাদি।তার হত্যার প্রতিবাদে জানাজা শেষে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ করার ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। এ উপলক্ষে মানিক মিয়া অ্যাভিনিউতে অস্থায়ী একটি মঞ্চ নির্মাণ করা হয়েছে।জানাযাকে কেন্দ্র করে জাতীয় সংসদ ভবন ও আশপাশের এলাকায় কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে আইন- শৃঙ্খলা বাহিনী।নিরাপত্তার অংশ হিসেবে সংসদ ভবন এলাকায় এক হাজার বডি ওর্ন ক্যামেরাসহ পর্যাপ্ত সংখ্যক পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি) কমিশনারের নির্দেশনায় পুরো জানাযা এলাকা ঘিরে নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তা বলয় তৈরি করা হয়েছে।আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা সার্বক্ষণিক সতর্ক অবস্থানে রয়েছেন।নিরাপত্তার স্বার্থে মানিক মিয়া অ্যাভিনিউতে প্রবেশের প্রতিটি পয়েন্টে নিরাপত্তা চৌকি বসানো হয়েছে। আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী জানিয়েছে জানাযায় অংশগ্রহণকারীরা কোনো ধরনের ব্যাগ,ভারী বস্তু বা সন্দেহজনক সামগ্রী নিয়ে এলাকায় প্রবেশ করতে পারবেন না।পাশাপাশি পুরো এলাকায় ড্রোন ওড়ানো সম্পূর্ণভাবে নিষিদ্ধ করা হয়েছে।ডিএমপি'র মিডিয়া অ্যান্ড পাবলিক রিলেশন্স বিভাগের ডিসি মোহাম্মদ তালেবুর রহমান বলেন ওসমান হাদির নামাজে জানাজা উপলক্ষে এক হাজার বডি ওর্ন ক্যামেরাসহ পর্যাপ্ত সংখ্যক পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।যেকোনো অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সর্বোচ্চ সতর্ক রয়েছে এবং পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে।বিপুল জনসমাগম ও শৃঙ্খলা বজায় রাখার স্বার্থে শনিবার সকাল ১০টা থেকে খেজুরবাগান ক্রসিং থেকে মানিক মিয়া অ্যাভিনিউ পর্যন্ত সব ধরনের যানবাহন চলাচল বন্ধ রাখা হয়েছে। ট্রাফিক পুলিশ ঐ এলাকায় চলাচলকারী সাধারণ যানবাহনকে বিকল্প সড়ক ব্যবহারের পরামর্শ দিয়েছে।হাদির মৃত্যুকে ঘিরে রাজধানীতে ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনার পর শনিবার সকাল থেকে ঢাকার বিভিন্ন সড়কে অস্বাভাবিক নীরবতা লক্ষ্য করা গেছে। গুরুত্বপূর্ণ সড়ক ও মোড়ে যানবাহনের সংখ্যা ছিল তুলনামূলক কম।অনেক এলাকায় দোকানপাট বন্ধ থাকতে দেখা গেছে।স্থানীয়দের ভাষ্য,নিরাপত্তা পরিস্থিতির কারণে প্রয়োজন ছাড়া সাধারণ মানুষ ঘর থেকে বের হচ্ছেন না।পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নগরীর বিভিন্ন স্থানে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর টহল ও চেকপোস্ট জোরদার করা হয়েছে।পূর্ব নির্ধারিত সময় অনুযায়ী শনিবার দুপুর ২টায় জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় শরীফ ওসমান হাদির নামাজে জানাজা অনুষ্ঠিত হবে।জানাযা শেষে তার মরদেহ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় মসজিদ প্রাঙ্গণে নেওয়া হবে এবং জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের সমাধির পাশে তাকে সমাহিত করা হবে।উল্লেখ্য হাদির মৃত্যুতে শনিবার সারা দেশে একদিনের রাষ্ট্রীয় শোক পালন করা হচ্ছে।সরকারি ও বেসরকারি সব ভবনে জাতীয় পতাকা অর্ধনমিত রাখা হয়েছে।গত ১২ ই ডিসেম্বর রাজধানীর বিজয়নগর এলাকায় গণসংযোগে অংশ নিতে গেলে চলন্ত মোটরসাইকেল থেকে দুর্বৃত্তদের ছোড়া গুলিতে শরীফ ওসমান হাদি গুরুতর আহত হন। চিকিৎসাধীন অবস্থায় পরে তার মৃত্যু হয়।
কপিরাইট © ২০২৬ Daily Nasa News । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত